1. nwes@w3speace.net : ASIF : ASIF
  2. azahar@gmail.com : azhar395 :
  3. admin@gazipursangbad.com : eleas271614 :
  4. wordpUser4@org.com : GuaUserWa4 :
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

নিরাপদ কর্মপরিবেশ শুধু শ্রমিকের নয়, শিল্পের স্বার্থেও অপরিহার্য       —- নজরুল ইসলাম খান-গাজীপুর সংবাদ 

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ

পীরজাদা মোঃ মাসুদ হোসেন,  

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার মূল কারিগর শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল ব্যক্তির জন্য নয়, বরং শিল্প ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থেই অপরিহার্য। শ্রমজীবী মানুষের ঘাম ও ত্যাগের বিনিময়েই আজকের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। তাই তাদের জন্য মানবিক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফে) আয়োজিত “মনোসামাজিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করি, শোভন কর্মপরিবেশ গড়ি” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের জীবন-জীবিকার প্রায় সবটুকুই আসে শ্রমিকদের হাত ধরে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা না দিলে শুধু তাদের পরিবারের ক্ষতি হয় না, বরং শিল্পের অভিজ্ঞ জনবল হারিয়ে মালিক ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ আইএলও-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং অনেক কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে আট ঘণ্টা কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে অনেক শ্রমিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশের শ্রম আইনের অনেক সংস্থার কাজ সম্পাদিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ৮৩ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সেফটি ইন্সপেক্টর রয়েছেন মাত্র ৪৫ জন। এই জনবল সংকট ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব দূর না করলে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। পরিদর্শকদের সামাজিক মর্যাদা ও পদোন্নতির সুযোগ তৈরির ওপরও তিনি জোর দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার একটি শ্রমবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সবসময়ই শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে তরুণ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সন্তানদের শিক্ষার জন্য একটি  সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা শ্রমিকদের কষ্টের জীবন দেখেছি। কেবল সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম করে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং আজ যেসব সমস্যার কথা উঠে এসেছে তার অন্তত অর্ধেকও যদি আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই এ ধরনের আয়োজন সার্থক হবে। তিনি মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে মনে করেন বক্তারা।‌

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এবং কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মোহাম্মদ ইমরুল মহসীন। অনুষ্ঠানে আইএলও-র প্রতিনিধি, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025
Developer By insafIT.com.bd
https://writingbachelorthesis.com