
মায়ুন কবির,রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
মায়ের কোলজুড়ে ছিল দুই জমজ সন্তানের হাসি। সেই হাসির একটি আজ চিরতরে স্তব্ধ। হামের নির্মম থাবায় নিভে গেল পাঁচ বছরের শিশু তারানুনের জীবন। আর এই এক শিশুর মৃত্যু যেন পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় ছড়িয়ে দিয়েছে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের মুনিষগাঁও গ্রামের আব্দুল হালিমের দুই জমজ সন্তানের মধ্যে এক কন্যাশিশু তারানুন (৫) গত শুক্রবার (২২ মে) ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতে খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে তারানুনকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। শনিবার গ্রামের বাড়ি মুনিষগাঁওয়ে কান্নাভেজা পরিবেশে তাকে দাফন করা হয়।স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। যে শিশুটি কয়েকদিন আগেও উঠোনজুড়ে খেলাধুলা করছিল, সেই ছোট্ট তারানুন আজ নিথর। সন্তানের মৃত্যুতে দিশেহারা বাবা-মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডা. ইফতে খায়রুল ইসলাম জানান, শিশুটি এর আগেও একবার হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও হঠাৎ আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় হাসপাতালে আনা হয়।
তিনি বলেন, “আমরা শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাই। আজ পরীক্ষার রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সে হামে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”এদিকে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ১১০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১২৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।হামের বাড়তে থাকা সংক্রমণ ও একের পর এক শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply