
মিঠুন পাল,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় গুয়াবাড়িয়া এ.বি. বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসাইনের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১০টায় গলাচিপা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসাইন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি গুয়াবাড়িয়া এ.বি. বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে অনিয়ম বা অপরাধের অভিযোগ নেই। এরপরও তাঁর ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসাইন বলেন, এসব ছবি ও ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি কুচক্রী মহল তাঁর সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি এ ধরনের গুজবের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে গত ২৯ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসাইন। জিডির নম্বর ১৪৯৪।
প্রধান শিক্ষক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
Leave a Reply