
মোঃ জাকির হোসেন (কাতার প্রতিনিধিঃ)
কাতার ও সৌদি আরবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক ভিসা দালাল চক্র। “ফ্রি ভিসা”, “গ্যারান্টি চাকরি”, “ভালো বেতন”, “দ্রুত আকামা” ও “ইউরোপ পাঠানো”র মতো লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক, WhatsApp ও পরিচিত লোকজনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। পরে কাতার বা সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসা জাল প্রমাণিত হচ্ছে, আবার কোথাও গিয়ে কাজ বা আকামা পাচ্ছেন না প্রবাসীরা।
সম্প্রতি কয়েকজন প্রবাসী জানান, দেশে থাকা পরিবার জমি বিক্রি ও ঋণ করে টাকা জোগাড় করলেও বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, “ফ্রি ভিসা” নামে কোনো বৈধ সরকারি ভিসা ব্যবস্থা নেই। অথচ এই নাম ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। বিশেষ করে নতুন বিদেশগামী শ্রমিক ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা যাচাই করতে হবে। কোনো দালাল বা অবৈধ ব্যক্তির হাতে টাকা তুলে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব ও কাতারে অবৈধ শ্রমিক এবং ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে অবস্থানকারীদের আটক ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বাড়ছে। এতে দালালের মাধ্যমে যাওয়া অনেক প্রবাসী বিপদের মুখে পড়ছেন।
সচেতন মহল বলছে, বিদেশে কাজের নামে প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। অন্যথায় দালাল চক্রের প্রতারণা থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।
Leave a Reply