
রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু আব্দুল্লাহর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া এলাকায়। তার বাবা প্রবাসী। ছেলেকে ভালো ও উন্নত শিক্ষার উদ্দেশ্যে পরিবার গফরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে এবং তাকে মাদ্রাসাতুল মাদিনা, গফরগাঁও (মাদানী নেসাব)-এ ভর্তি করান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের দুই শিক্ষার্থী— মাহমুদ ও রাশেদ— প্রথমে আব্দুল্লাহর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। পরে বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, গত ১৮ মে দিবাগত রাতে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, দ্বিতীয়বারের ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ভুক্তভোগী পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং মারধরের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে গোপন বৈঠকে উপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে গফরগাঁও থানার এসআই বিপ্লবের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “অন্য একজনের ফোনে মাদ্রাসায় ছাত্রদের মারামারির ঘটনা শুনে সেখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলেছে।” তবে বলাৎকারের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় ভাই অভিযোগ করে বলেন, “এর আগেও আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মীমাংসার নামে উল্টো ভুক্তভোগী ছাত্রকে বেত্রাঘাত করেছে এবং মাদ্রাসা থেকে বের করে দিয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “এলাকার স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। এমনকি এ বিষয়ে বাইরে আলোচনা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরে নিরাপত্তার কারণে ছোট ভাইকে নিয়ে আমরা নিজ বাড়ি নান্দাইলে চলে আসি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন পর্যায়ে গোপন বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার পৃষ্ঠপোষক মুফতি মানসুর আহমাদ (দা:বি:), যিনি জামিয়া আরবিয়া বাইতুস সালাম, উত্তরা, ঢাকার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, তার কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে বলে শুনেছি।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পরিবার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার।
(বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনটি অভিযোগকারী, স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ও অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।
Leave a Reply