
হুমায়ুন কবির,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে বিচারসেবা সহজলভ্য করা এবং জনগণকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গ্রাম আদালত বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, গ্রাম আদালত উপজেলা সমন্বয়কারী রাশেদা আক্তারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন।বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত হচ্ছে স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত একটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, যেখানে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই স্বল্প খরচে বিচারসেবা গ্রহণ করতে পারেন। বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত ক্ষুদ্র বিরোধ, পারিবারিক কলহ, আর্থিক লেনদেনের ছোটখাটো সমস্যা এবং সামাজিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের জেলা বা বিভাগীয় আদালতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। স্থানীয়ভাবে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় থাকে। একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত আদালতগুলোর ওপর মামলার চাপ কমাতেও গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।আলোচনা সভায় গ্রাম আদালতের গঠনপ্রণালী, বিচার প্রক্রিয়া, আবেদন পদ্ধতি, সেবার সুযোগ-সুবিধা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা গ্রাম আদালতকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, গ্রাম পুলিশ সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য গ্রাম আদালত বিষয়ক একটি তথ্যচিত্র (ভিডিও) প্রদর্শন করা হয়। এতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিচারসেবা গ্রহণের পদ্ধতি, সফল বিরোধ নিষ্পত্তির উদাহরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। ভিডিও প্রদর্শনের পর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
পরে উপস্থিত জনগণের অংশগ্রহণে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বিচারসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে এবং গ্রাম আদালত সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা বৃদ্ধি করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, গ্রাম আদালত শক্তিশালী হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ কমবে, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ আরও সহজে ন্যায়বিচার লাভ করতে সক্ষম।
Leave a Reply