1. nwes@w3speace.net : ASIF : ASIF
  2. azahar@gmail.com : azhar395 :
  3. admin@gazipursangbad.com : eleas271614 :
  4. wordpUser4@org.com : GuaUserWa4 :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

কোচিং থেকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষার্থী শিবা রাণী: শোকে স্তব্ধ পরিবার, কাঁদছে পুরো এলাকা-গাজীপুর সংবাদ 

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ৪৯ টাইম ভিউ

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

প্রতিদিনের মতোই শনিবার সকালেও বই-খাতা হাতে কোচিংয়ে গিয়েছিল বাবা- মায়ের একমাত্র সন্তান শিবা রাণী (১৫)। পরিবারের সবার মতো তারও ছিল স্বপ্ন,পড়ালেখা করে বড় হবে, বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে। কোচিং শেষে বাড়ি ফিরে হয়তো মায়ের সঙ্গে গল্প করবে, বাবাকে বলবে দিনের কথা। কিন্তু ভাগ্য যেন লিখে রেখেছিল এক নির্মম পরিণতি। সেদিন সে আর ফিরে আসেনি নিজের পায়ে হেঁটে। ফিরেছে নিথর দেহ হয়ে, চার কাঁধে ভর করে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পৌর শহরের বন্দর এলাকার কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন পাকা সড়কে শনিবার (১৩ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ঘটে এই হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা। নিহত শিবা রাণী ওই এলাকার গোবিলাল ও সুমি রানীর একমাত্র সন্তান। একমাত্র মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা। স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার বাতাস। যে ঘরটি কিছুক্ষণ আগেও ছিল স্বপ্ন আর হাসিতে ভরা, সেখানে এখন শুধুই শোকের নীরবতা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার ওমরাডাঙ্গী সড়কের কুয়েত মসজিদ ও স্থানীয় জামায়াত অফিস সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় শিবা রাণী একটি দ্রুতগতির সেলোমেশিনচালিত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রাকটির গতি এতটাই বেশি ছিল যে সংঘর্ষের তীব্রতায় শিবা রাণী রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যায়। মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘাতক যানটিকে আটকের চেষ্টা করেন। এ সময় চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসি চালকদে আটক করে বেঁধে রাখে। এ নিয়ে  উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকটির চালকের নাম বাবলু হোসেন। তিনি উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন।

এদিকে একমাত্র মেয়ের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে মায়ের আহাজারি উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দেয়। বারবার তিনি শুধু বলছিলেন, “সকালে তো হাসিমুখে কোচিংয়ে গেল, আমার মেয়েটা এভাবে ফিরে আসবে, কখনো ভাবিনি।” মেয়ের নিস্তব্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন বাবা। যেন মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যৎ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শিবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নিরাপত্তা জোরদার, বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। রাণীশংকৈল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025
Developer By insafIT.com.bd
https://writingbachelorthesis.com