
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুর মহানগর ১৯ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সালনা এলকার বাসিন্দা মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে তারা মিয়া (২৫) হত্যাচেষ্টার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ৩০ জুলাই বিকেল ৪টায় তারা মিয়ার নিজ বাড়ীর সামনে এই মানববন্ধনে এলাকাবাসী সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন করতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে গত ১৮ জুলাই গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় মামলা নং ৩৬/৩৯৫ দায়ের করা হয়েছে। মামলা ও এলাকাবাসী মানববন্ধন সুত্রে জানা যায়,গত ১৬/০৭/২০২৬ ইং তারিখ দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা মিয়া নিজ বাড়ী থেকে দোকানে যাওয়ার সময় দক্ষিণ সালনা মোঃ আইবুল্লাহ’র বাড়ীর পার্শ্বে রাস্তায় পৌছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের সহযোগী ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা লোকজনসহ ধারালো দা, লাঠি, লোহার রড, রামদা, চাপাতি, চাইনিচ কুড়াল ইত্যাদি নিয়ে তারা মিয়ার গতিরোধ করে হত্যার হুমকি দিয়ে মারপিট শুরু করেন।
এসময় মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশে মোঃ মোমেন(২৫),পিতা হাবিবুর রহমান ধারালো রামদা দিয়ে মোঃতারা মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দিলে তারা মিয়া হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে ডান হাতের বাহুতে লেগে মারাত্মক জখম হয়। এছাড়া
মোঃ জাহিদ(২৩),পিতা হাবিবউল্লাহ,ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের বাম পার্শ্বে কোপ দিয়ে গভির জখম করে। অতঃপর মোঃ আবিদ,(২৫) পিতা হাবিবুুল্লাহ চাইনিচ কুড়াল দিয়ে তারা মিয়াকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য ডান পায়ের হাটুর উপরে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। আইবুল্লাহ ধারালো দা দিয়ে পিঠের ডান পার্শ্বে কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং মোঃ শাহজাহান (৪০),পিতা,আনোয়ারুল দা দিয়ে পেটের ডান পার্শ্বে কোপ দিয়ে আহত করে ফেলে যায়,
যেহেতু ঘটনাটি এলাকার ভিতর তাই তারা মিয়া বাঁচার জন্য ডাক-চিৎকার করলে মোঃইয়াসিন,পিতা ওবায়দুল তার দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।এসময় তারা মিয়া বাঁচার জন্য জোরাজুরি করলে আবির ও শ্রাবনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন এলোপাথারীভাবে মারপিট করে চান মিয়ার লুঙ্গির কোচে রাখা নগদ ২০,০০০/= (বিশ হাজার) টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এরপর চান মিয়ার ডাক চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল রেফার্ড করা হয়।
অন্যান্ন আসামীরা হলেন, মোঃ নয়ন (২৮) পিতা,নুরইলাম, মোঃ আইবুল্লা,৫২,হাবিবুর রহমান (৫৫),আবির (২২),শ্রাবন (২০) সহ অজ্ঞ্যত ৭/৮জন।
ভুক্তভোগী চান মিয়ার বক্তব্য থেকে জানা যায় তিনি তার ভাই জাকির ডেকোরেটর ব্যাববসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করে আসছিলেন। আসামীরার এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং এলাকয় বিভিন্ন শন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত। তাদের সাথে দির্ঘদিন যাবৎ জমিজমা নিয়ে তারা মিয়া ও তার পরিবারের সাথে বিরোধ চলছিল। ঘটনার কিছুদিন আগে মাদক কারবার নিয়ে তাদের সাথে চান মিয়ার বাকবিতন্ডা হলে তিনি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের জানান সেই থেকে আসামিরা সুযোগ খুঁজতে থাকে,তাই১৬ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে মোমেন,জাহিদরা তাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মিয়াকে এই আক্রমনে স্বীকার হতে হয়েছে।
এদিকে মামলা হওয়ার ১২ দিনি পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোন আসামী আটক না করায় মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী এ ঘটনার তিব্র ক্ষোভ এবং নিন্দা জানিয়ে বলেয়ে বলেন,আসামিরা এলাকার চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও মাদক কারবারি তাই তাদেরকে দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্ত মুলুক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আসামি আটকের বিষয় জানতে চাইলে সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন ইতিমধ্যে তিনি আসামি আটকের নির্দেশ প্রদান করেছে।
Leave a Reply