
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ৩২টি হাঁস কীটনাশক দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বাবা ও ছেলেকে মারধর এবং ছেলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগে গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. শাহাবুদ্দিন মল্লিক (৩৮)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহাবুদ্দিন মল্লিক ও অভিযুক্তরা একই বাড়িতে বসবাস করেন এবং পরস্পর আত্মীয়। তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ৩২টি হাঁস অভিযুক্তদের জমিতে যাওয়ার পর সেগুলো কীটনাশক দিয়ে মেরে ফেলা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় অভিযুক্তরা শাহাবুদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি ও তাঁর ছেলে এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে বাবা-ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. রাজা মল্লিক বাঁশের লাঠি দিয়ে শাহাবুদ্দিনের ছেলের মাথায় আঘাত করলে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। তাঁদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা শাহাবুদ্দিনের মাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের দুজন নারীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
শাহাবুদ্দিন মল্লিক অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর তিনি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব করেন।
এ ঘটনায় মো. রাজা মল্লিক, মো. ফারুক মল্লিক, মো. নুর ইসলাম মল্লিক, মো. কালাম মল্লিক, গোলভানু বেগম, সীমা বেগম ও রুমা বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শাহাবুদ্দিন মল্লিক বলেন, “জমিজমা নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। হাঁস মেরে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
গলাচিপা থানায় অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply