
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চারদিকে বিস্তীর্ণ হাওর, বর্ষায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের প্রধান ভরসা। কখনো বৃষ্টি, কখনো পাহাড়ি ঢল—সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদ্যালয়ে ছুটে যান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
হাওরপাড়ের এসব শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
তাঁদের অবদান স্মরণ ও সম্মান জানাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ রিপামনি দেবী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তাহিরপুরের মতো হাওর অধ্যুষিত ও প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে যোগাযোগব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়লেও অনেক শিক্ষক নৌকায় করে বিদ্যালয়ে পৌঁছান। তাঁদের প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ রিপামনি দেবী বলেন, “শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, তাঁরা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখান এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথ দেখান। একজন ভালো শিক্ষক একটি প্রজন্মকে বদলে দিতে পারেন।”
তিনি বলেন, “তাহিরপুরের মতো হাওরবেষ্টিত এলাকায় শিক্ষার পথে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। বর্ষায় যোগাযোগব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ে, অনেক শিক্ষার্থীকে নৌকায় করে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাঁদের এই আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
ইউএনও আরও বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকার কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু ভৌগোলিক কারণে পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে তাহিরপুরের প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব।”
সভায় বক্তারা শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন হাওরের প্রত্যন্ত জনপদে একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষিত করা নয়, বরং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার পথ তৈরী করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এর শিক্ষক-মন্ডলী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
Leave a Reply