
হুমায়ুন কবির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঐতিহাসিক রামরাই দিঘি, যা স্থানীয়ভাবে রাণীসাগর নামে পরিচিত, তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে। উপজেলা উন্নয়ন ফোরাম ও শুভ শক্তি ইউনিটের অর্থায়নে দিঘি প্রাঙ্গণের পরিত্যক্ত জমিতে প্রথম ধাপে ২০০টি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সবুজে সুশোভিত হয়ে উঠবে ঐতিহাসিক এই পর্যটনস্থল। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রামরাই (রাণীসাগর) দিঘি প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান। শুভ শক্তি ইউনিটের পৃষ্ঠপোষক অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান শুভর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম আর বকুল মজুমদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সরকার, ছাত্রদল নেতা লেমন, শুভ শক্তি ইউনিটের সদস্য এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ইশরাত জাহান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। ঐতিহ্যবাহী রামরাই দিঘির পাড়ে ২০০২ সালে বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রথম লিচুগাছ রোপণ করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের যে ঘোষণা দিয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ঐতিহাসিক দিঘিটির সৌন্দর্য বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে

আসতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যাও করতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও শুভ শক্তি ইউনিটের পৃষ্ঠপোষক অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান শুভ বলেন, জনস্বার্থে রাণীশংকৈল উপজেলাকে সবুজে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করছেন। এরই অংশ হিসেবে রামরাই দিঘির পাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে প্রথম পর্যায়ে ২০০টি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছও রোপণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গাছগুলো বেড়ে উঠলে দিঘি প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়নেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।আয়োজকেরা জানান, ঐতিহাসিক রামরাই দিঘি রাণীশংকৈলের অন্যতম পরিচিত স্থান। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
Leave a Reply