
সেলিম মাহবুব,সিলেট:
ছাতকে পল্লিতে নিজ অর্থায়নে গ্রামীণ ৮টি সড়কে মাটি ভরাট কাজ করে প্রশংসিত কুরিয়েছেন আওয়ামীলীগের স্থানীয় দু’নেতা। চলাচলে অনুপযোগি এসব সড়কে মাটিভরাট করায় এলাকার লোকজন এখন সাচ্ছন্ধ্যে যাতায়াত করতে পারছে। বিগত ৭ জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচন পূর্ব সময়ে এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে তারা রাস্তা নির্মাণ করে দেয়ার কথা বলেন। সেই লক্ষে নির্বাচনের আগেই এসব সড়কের কাজ শুরু করেন তারা। সম্প্রতি ৭টি সড়কে মাটিভরাট কাজ পুরোপুরি শেষে হয়েছে এবং একটি রাস্তার কিছু অংশ ভুমি সংক্রান্ত জটিলতার জন্য অসমাপ্ত রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই এ রাস্তায় পূর্নাঙ্গ মাটিভরাট কাজ শেষ করতে পারবেন বলে তারা জানিয়েছেন। উপজেলা সদরের সাথে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়ন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সুরমা, চেলা, পিয়াই ও সোনাই নদী এ ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অসংখ্য বিল-বাদাল, হাওর, টিলা সহ এ ইউনিয়নে রয়েছে বিশাল বালু মহাল। প্রতি বছর এ ইউনিয়ন থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে সরকার। কিন্তু ভৌগোলিক জটিলাতার কারনে সম পরিমান উন্নয়ন হয়নি এ ইউনিয়নে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ইসলামপুর ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুল ধারায় নিয়ে আসা ছাড়া ছাতক উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সম্প্রতি তাকে দেয়া এক সংবর্ধনা সভায় মুহিবুর রহমান মানিক এমপিও এমনই মন্তব্য করেছেন। এদিকে বিগত জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয় লোকজন রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও সংস্কারের দাবী জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন। ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ৭-৮টি গ্রাম নিয়ে ২ ও ৩নং ওয়ার্ড।

এ ওয়ার্ডেই রয়েছে মনিপুরী অধ্যুষিত ধনিটিলা, রাস নগর ও রতপুর গ্রাম। ক্ষদ্র-নৃ-গোষ্ঠির নেতা রঘুমনি সিংহ এ ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল। নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর সময় এলাকাবাসীর দাবী পুরনে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এ দু’ নেতা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন রাস্তা নির্মাণের ব্যাপারে। যে কথা সেই কাজ। নির্বাচনের আগেই বেশ কয়েকটি রাস্তার মাটি ভরাট কাজ শুরু করলেন তারা। ৮টি রাস্তার মধ্যে ৭টি রাস্তার মাটি ভরাট কাজ শুরু করলেন সভাপতি রঘুমনি সিংহ এবং একটি রাস্তার কাজ শুরু করলেন সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জান কামরুল। প্রতিটি রাস্তাই নিজ অর্থায়নে শেষ করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে করেন রঘুমনি সিংহ এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন কামরুজ্জামান কামরুল। সীমান্তের জিরো লাইন আলমের বাড়ী হতে বাগানবাড়ি তৈয়ব আলীর বাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ মিটার, রতনপুর রমাকান্ত সিংহের বাড়ী হতে নিজগাও (সোনাইনদী) মসজিদ পর্যন্ত ৫শ’ মিটার, গাংপার-কান্দি তাজুল মিয়ার বাড়ী হতে মরাগাং বাবুল মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ৪শ’ ৫০ মিটার সড়ক, যে সড়কে রয়েছে ভুমিহীনের জন্য নির্মিত অন্তত ১৫টি সরকারি ঘর, জামতলা সিরাজ মিয়ার বাড়ী হতে নতুন বস্তি জামে মসজিদ (মেইনরোড) পর্যন্ত ১শ’ ৫০ মিটার সড়ক, ইছামতী-ছনবাড়ী সড়কের রাসনগর পাকা রাস্তা হতে পুতুলপাড়া আব্দুল মালিকের বাড়ী পর্যন্ত ২কি:মি: দারোগাখালী রজব আলী মেম্বারের বাড়ী হতে চান মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ২ কি:মি: সড়কে মাটি ভরাট কাজ করেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রঘুমনি সিংহ এবং ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সোনালীচেলা-ইছামতী বাজার সড়ক হতে লুবিয়া গ্রামের জিরোলাইন পর্যন্ত প্রায় ৫’শ মিটার সড়কে মাটি ভরাট কাজ করেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল। গাংপার-নোয়াকুট সোনাই নদী তাজুল মিয়ার বাড়ী হতে মরাগাং বাবুল মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ৪শ’ ৫০ মিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ২০০ মিটার সড়কে স্থানীয় জনৈক ব্যক্তির বাধার কারনে এখন পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়নি। সরকারী ভুমির উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণে বাধা দেয়ায় গাংপার-নোয়াকোট গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের পুত্র বাবুল মিয়া বাদী হয়ে সহকারী কমশিনার (ভুমি) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, গ্রামের মৃত আমজদ আলীর পুত্র আব্দুল মালিক অবৈধভাবে সরকারী ভুমির উপর দিয়ে জনসাধারনের চলাচলে সুবিধার জন্য নির্মাণাধিন সড়কের কাজে বাধা প্রদান করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাস্তাটি পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান বলেন।
Leave a Reply