
সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল:
জামালপুর শহরের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা বোসপাড়া পানির ট্যাংক সংলগ্ন এলাকাটি বর্তমানে যেন এক অঘোষিত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলে রাখায় পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পথচারী, শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর ও সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকার ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। নিয়মিতভাবে এসব আবর্জনা অপসারণ না করায় ময়লার স্তূপ দিন দিন বড় হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পঁচা ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ ও জীবাণু। এতে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু রাস্তার পাশে উন্মুক্ত ময়লার স্তূপ থাকায় নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই জানান, সন্ধ্যার পর দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়, ফলে ঘরের জানালা-দরজা খুলে রাখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল করিম বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা হলেও এখানে এখন বসবাস করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
আরেক বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা একাধিকবার পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু মাঝে মাঝে কিছু ময়লা সরানো হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই উন্মুক্ত ডাম্পিং ব্যবস্থা বন্ধ করে নির্দিষ্ট ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত ময়লা অপসারণ, জীবাণুনাশক স্প্রে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এবিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, একটি শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। তাই জনস্বার্থে জামালপুর পৌর কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
Leave a Reply