
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
মাত্র চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তার। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল খেলনা আর রঙিন স্বপ্ন, সেই বয়সেই তাকে বিদায় নিতে হলো এক বিভীষিকাময় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার মরদেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুরসালিন (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া আনসার ডাঙ্গী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত লামিয়া ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) বিকেল থেকে শিশু লামিয়া নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। এলাকাবাসী জানান, একই গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে মুরসালিন প্রায়ই শিশুটিকে নিয়ে খেলাধুলা করত। নিখোঁজ হওয়ার বিকেলেও তাকে শিশুটিসহ ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মুরসালিনকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অপরাধের কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন,”প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কিশোর স্বীকার করেছে যে, সে শিশুটিকে ধর্ষণের পর ধরা পড়ার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।” এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত মুরসালিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে কিছুটা ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়রা এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply