1. nwes@w3speace.net : ASIF : ASIF
  2. azahar@gmail.com : azhar395 :
  3. admin@gazipursangbad.com : eleas271614 :
  4. wordpUser4@org.com : GuaUserWa4 :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

ছাতকে কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের ভূমিতে কু-দৃষ্টি পড়েছে ভূমি খেঁকো চক্রের-গাজীপুর সংবাদ 

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ২৩ টাইম ভিউ

সেলিম মাহবুবঃ

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠাকালে এলাকার দানশীল ব্যক্তিরা ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের পক্ষে চীপ মেডিকেল অফিসার বাহাদুর বরাবরে দুইটি দলিলে মোট ১৮ জন দাতা ব্যক্তির পক্ষ থেকে ২৭ কেদার ভূমি সাব-কবলার মাধ্যমে দান করেন।

স্থানীয় ও দানকৃত ভুমির দলিল সূত্রে থেকে জানা যায়, ১৯৬১ সালে দলিল নং-৭৯২ গোপিকা ভূষন পুরকায়স্থ গং ১২ জন এবং একই সনে দলিল নং- ৭৯৩ তাহির আলী গং ৬ জন সহ মোট ১৮ জন ব্যক্তি কৈতক সরকারি হাসপাতালের নামে সাব-কবলা করে ভূমি দান করেন।

বাউন্ডারিভুক্ত এ ভূমিতে রয়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বাউন্ডারির বাইরে
ভূমিতে হাসপাতালের রাস্তা ও নৌকাঘাট।

কিন্তু হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এ পযন্ত কৈতক সরকারি হাসপাতালের নামে দাতাদের দানকৃত কোন ভূমি নামজারী বা রেকর্ডভূক্ত হালনাগাদ না হওয়ায় পূর্বের মালিকদের নামে তা রয়ে যায়।

এদিকে ভূমি দাতা গোপিকা ভূষন পুরকায়স্থের ছেলেরা মৃত পিতার হাসপাতালে দানকৃত ভূমি পুনরায় জনৈক দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ভূমি দাতা সদস্য গোপিকা ভূষণ পুরকায়স্থের ছেলে গোপতি প্রিয় পুরকায়স্থ, গকোলেন্দু পুরকায়স্থ মৃত পিতার দানকৃত ভূমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অজান্তে বিগত ১৩.০৮.২০১২ তারিখে দলিল নং ৩১৭৯/১২ মাধ্যমে পাইগাঁও গ্রামের (বর্তমানে খিদ্রাকাপন) গ্রামের হাজী জফর আলীর পুত্র জনৈক কবির আহমদের কাছে ৭ শতাংশ ভূমি বিক্রি করেন।

একইভাবে ২৩.০৮.২০১২ তারিখে গোপিকা ভূষণ পুরকায়স্থের আরেক ছেলে তাপস পুরকায়স্থ দলিল নং ৩২০৪/১২ মাধ্যমে কৈতক গ্রামের মৃত আফিজ আলীর ছেলে জনৈক নজির আলীর কাছে ৪ শতাংশ ভূমি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের নামে দান করা বর্নিতদাগের এসব ভূমি হাসপাতালের পাকা বাউন্ডারির ভিতরে ও প্রায় ২ শতাংশ ভূমিতে রয়েছে হাসপাতালের রাস্তা।

অভিযোগ রয়েছে জনৈক কবির আহমদ অবৈধ ভাবে দলিল করে ২০১২ সালে কৈতক হাসপাতালের সরকারি জায়গা দখল করতে আসলে তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনের বাঁধার কারনে তা প্রতিহত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে গত বছর ০৭.০৫.২০২৫ তারিখে কবির আহমদের লোকজন আবারও হাসপাতালের সরকারি জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভূমি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করতে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী তাদের বাঁধা প্রদান করেন।

এলাকাবাসী লোকজন জানান, এটি হলো সরকারি হাসপাতালের নামে দানকৃত ভূমি। হাসপাতালের দানকৃত ভূমির দলিলের চতুঃসীমার ৬ টি দাগেরই উত্তরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা উল্লেখ রয়েছে এর মধ্যে কোন মালিকানার জায়গা নেই।

কবির আহমদ ও নজির আলী যাদের কাছ থেকে দলিল করে হাসপাতালের ভূমি ক্রয় করেন। সেই দাতাদের পুর্বশুরীরা দলিল করেই ভূমি হাসপাতালে দান করেছেন। সুতরাং এই ভুমিতে দলিলদাতা গোপতি প্রিয় পুরকায়স্থ ও গকোলেন্দু পুরকায়স্থ এর কোন মালিকানা নেই।

হাসপাতালের ভুমি দখলের চেষ্টার বিষয়টি এলাকাবাসী সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জসিম উদ্দিন-কে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে হাসপাতালে এসে পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানান। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ প্রেক্ষিতে ০৮.০৪.২০২৫ ইংরেজি তারিখ কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে কৈতক সরকারি হাসপাতালের ভুমি অবৈধ ভাবে দখল প্রক্রিয়ায় বিরুদ্ধে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুসরাত আরেফিনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ১৫.০৪.২০২৫ তারিখে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে হাসপাতালের ভুমি ভুমিখেকোদের অবৈধ নামজারী বাতিল ও দাতাদের দানকৃত ২৭ কেদার ভুমি কৈতক সরকারি হাসপাতালের নামে নামজারী এবং হাসপাতালের নামে রেকর্ডভূক্ত করণের দাবি জানান।

পাশাপাশি ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুসরাত আরেফিন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নামজারি বাতিলের আবেদন করেন তারা।

সূত্র জানায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি শুনানির জন্য ০৫.০১.২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার ও স্থানীয় তহসিল অফিসের মাধ্যমে সার্ভে করে যৌথ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

তবে কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবের কারণে এখন পর্যন্ত সার্ভে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ভূমি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, কৈতক হাসপাতালের সরকারি ভূমি উদ্ধারের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করায় ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় এলাকাবাসীর উপর হুমকি-ধামকী ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানি করা হচ্ছে।

ভূমি জবর দখলে ব্যর্থ হয়ে কবির আহমদ ২৬.০৩.২০২৫ তারিখ চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এতে কৈতক গ্রামের সাবেক মেম্বার ও জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি কৈতক তালিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শালিস ব্যক্তিত্ব মোঃ আব্দুর রহিম, সাংবাদিক ও শিক্ষানবিশ আইনজীবি, সাউথ ওয়েস্ট সালেহ আহমেদ স্কুল এন্ড কলেজের ট্রাষ্টি মোহাম্মদ রাজ উদ্দিন, ব্যবসায়ী মোঃ আশরাফ আহমদ ও আব্দুর গফুরকে আসামী করে হয়রানিমূলক, মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্য দখলদারদের ভুমি দখলে বাঁধা দেয়ার কারণে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক একটি মামলা দায়ের করে কবির আহমদ
এলাকার সন্মানিত লোকদের হয়রানি করে যাচ্ছে।

এলাকার সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল অবিলম্বে কথিত ভুমিখেকো চক্রের কবির আহমদ ও নজির আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের যোগাযোগেতেই ভুঁয়া নামজারী বাতিল করে কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের নামে দানকৃত ২৭ কেদার ভূমি হাসপাতালের নামে রেকর্ডভুক্ত করা হোক। এ ব্যাপা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025
Developer By insafIT.com.bd
https://writingbachelorthesis.com