
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার কৃষকদের কম উচ্চতার ফসল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও এলজিইডির যৌথ আয়োজনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষি উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান এবং এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সীমান্ত এলাকার কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার মোট ৮০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি ধানের রোপা আমন বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়। কৃষকদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেওয়ার সময় তাদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কেও পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো তিন ফুটের বেশি উচ্চতার ফসল চাষের কারণে অনেক সময় নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ কারণে কৃষকদের কম উচ্চতার ফসল, বিশেষ করে উন্নত জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও অব্যাহত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সীমান্ত এলাকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক চাষাবাদে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষকরা যাতে সর্বোচ্চ ফলন পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করবে।”এদিকে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। তারা জানান, বর্তমান সময়ে কৃষি উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের দেওয়া বীজ ও সার তাদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। এতে আমন মৌসুমে চাষাবাদের খরচ কমবে এবং ভালো ফলনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।কৃষকদের মতে, সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
Leave a Reply