
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট প্রায় সাত মাস ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনেও এটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। মঙ্গলবার ৩০ জুন সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের মলানখুড়ি গ্রামের ওপর দিয়ে পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কটি গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) সড়কটির সংস্কার ও পিচঢালাইয়ের কাজ করে। সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে কালভার্টটি দেবে যায়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক রুবেল ইসলাম ও মোস্তাকিম, অটোরিকশাচালক সমর দাস জানান, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অটোরিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হওয়ায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে সময়ও বেশি লাগছে।স্থানীয় বাসিন্দা কায়সার আলী মিন্টু বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কালভার্ট মাসের পর মাস ভেঙে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।” আব্দুল জলিল বলেন, “একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে কালভার্টটি ভেঙে থাকার কারণে ছোট-বড় কয়েকটি দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।”কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগও বেড়েছে। স্থানীয় কৃষক কুশল রায় বলেন, “কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ এবং কৃষিযন্ত্র পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে

যাচ্ছে।”গৃহবধূ তেরজিনা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুরা সাইকেলে করে স্কুলে যায়। ভাঙা কালভার্টের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে থাকতে হয়। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন।” ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বাক্ষর বলে, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই ভাঙা কালভার্ট পার হতে হয়। খুব ভয় লাগে। একজন সাইকেল নিয়ে পার হওয়ার পর আরেকজনকে অপেক্ষা করতে হয়। সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।”এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির সদর উপজেলা ও রুহিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।তবে সেনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, “কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই এটি মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।”
দীর্ঘ সাত মাস ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা কালভার্টটি এখন শুধু একটি ভাঙা অবকাঠামো নয়, এটি হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির স্বার্থে দ্রুত কালভার্টটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, আর কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
Leave a Reply