
সেলিম মাহবুব, ছাতকঃ
ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নে মরা চেলা, চলিতার ঢালা, হাদা-পান্ডব এলাকায় অবৈধভাবে বালু লুটপাটের তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। বিনা ইজারায় তারা বালু লুট করছে দীর্ঘ দিন যাবত। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের ঘর-বাড়ি ও ক্ষেতের জমি হুমকির মুখে পড়েছে।
ড্রেজার মেশিন দিয়ে রাতে বালু উত্তোলনের ফলে কয়েক ভিগা ক্ষেতের জমি নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার উপক্রম। বালু খোকোদের তান্ডবে একটি বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকিপুর্ণ খুটি ভেঙ্গে রহমতপুর এলাকার জাকির হোসেনের বসত ঘরের উপর পড়ে গেছে এবং বসত ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রহমতপুর থেকে খাটুমারা পর্যন্ত বিদ্যুৎ এর লাইনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে রহমতপুর ও খাটুমারা গ্রামবাসী তাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে নিরাপত্তা ঝুকিতে রয়েছেন। ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডবাসী স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন মৌখিকভাবে। ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডবাসী বালুখেকো চক্রের আবুল কালাম এবং তাদের সিন্ডিকেটের সকল-কে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করার আহবান জানালেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। নানা ভাবে বাধা দেয়া হয়েছে

এসব তার গ্রাহ্য করছেনা। জোর যার মুল্লুক তার এভাবেই তাদের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। গ্রাম ও এলাকাবাসী এবং সরকারের ক্ষতির বিষয়টি তোয়াক্কা করছে না তারা। বন বিভাগের সরকারি জমি থেকেও প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে ওই মহল। মাঝে মাঝে থানা ও নৌ-পুলিশের অভিযান হলেও কাউকে আটক বা মালামাল জব্দ করতে দেখা যায় নি।
এ বিষয়ে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মৃত ইনছান আলীর পুত্র হোসেন আহমেদ গত ১২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ অভিযোগে দুইটি গ্রামের লোকজনের স্বাক্ষর রয়েছে। স্বাক্ষরকারী হলেন ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের আজাদ মিয়া, মোঃ আব্দুল্লাহ, সাদিক মিয়া, জাকির হোসেন, শামছুল আমিন, আব্বাছ মিয়া, আব্দুল করিম, আজিজহুল ইসলাম, সাকির, গফেশ, বুরহান উদ্দিন, হোসেন, তামবির, শফিক, বারিক, নিল দাস, অষ্টমী রাণী দাস, মিরাজুন বেগম, আরতি, সুভাষ, মজলু জমিরসহ গ্রামবাসী। বালুখেকোদের হাত থেকে রক্ষা হচ্ছে না গ্রামবাসীর। কিন্তু এতে কোন প্রতিকার হচ্ছেনা বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।
তথ্য নিয়ে জানাগেছে, ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর মৌজার ক্ষেতের জমি ৬২০,৬২১,৬২৪ দাগের ভুমি থেকে প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলন চলছেই। এসব বন্ধ করার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ছাতক থানা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
Leave a Reply