1. nwes@w3speace.net : ASIF : ASIF
  2. azahar@gmail.com : azhar395 :
  3. admin@gazipursangbad.com : eleas271614 :
  4. wordpUser4@org.com : GuaUserWa4 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

ফিডে বিপাকে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩২ খামারি,৩০–৪০ লাখ টাকা ক্ষতি,৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ-গাজীপুর সংবাদ 

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ টাইম ভিউ

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

মুরগির খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে চরম দুশ্চিন্তা ও আর্থিক অনিশ্চয়তায়। দ্রুত মুরগির ওজন বাড়ানোর আশায় কেনা ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩২ জন খামারি ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। খামারিদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দর এলাকার একটি গুদাম থেকে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। জব্দ করা ফিড সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং এর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক। খামারিদের ভাষ্য, সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দরে রাম বাবুর সারের গুদামের পাশে একটি ভাড়া বাসায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের নামে মুরগির ফিড সংরক্ষণ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ফিড কিনে মুরগি পালন করে আসছিলেন তারা। তবে সম্প্রতি ওই ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ তাদের। শিবগঞ্জ এলাকার খামারি আলী ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুরগির খামার করছেন। ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ফিড খাওয়ানোর পর ৩২ দিন পার হলেও মুরগির আশানুরূপ ওজন হয়নি। এতে তার প্রায় ৮৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তার দাবি, তার মতো আরও ৩০ থেকে ৩২ জন খামারি একই ফিড ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।বেগুনবাড়ী রাজাপুকুর বাজার এলাকার খামারি মো. আলী হোসেন বলেন, ওই ফিড খাওয়ানোর পর তার খামারের প্রায় ৮০০ মুরগি মারা গেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন উদ্যোক্তা রফিক রাজা বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরি না পেয়ে তিনি বয়লার মুরগির খামার শুরু করেন। এম.আর. ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্ম থেকে ফিড নিয়ে মুরগিকে খাওয়ানোর পর সেগুলো অসুস্থ হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে অনেক মুরগি মারা যায়। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, “নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে শুরুতেই যদি ফিডের কারণে এভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে টিকে থাকব?” আরেক খামারি মো. সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ফিডের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।
খামারিদের আরও অভিযোগ, ফিডের বস্তায় উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ থাকলেও অনেক বস্তায় মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি কোম্পানির কর্মকর্তাদের জানানো হলেও দীর্ঘ সময়েও কোনো সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানির ম্যানেজার কয়েকটি খামার পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। অভিযোগ অস্বীকার প্রতিষ্ঠানের,তবে খামারিদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম খান। তার দাবি, ফিডের মান নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানাখামারিদের অভিযোগের পর রোববার বিকেলে দক্ষিণ সালান্দরের ওই গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক বলেন, জব্দ করা ফিড সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ফিডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা ক্ষতিপূরণ চাইলে আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফিডের উৎপাদন ও মেয়াদসংক্রান্ত নথি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। ফলে প্রাথমিকভাবে জব্দ করা ফিডের মান ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ক্ষতিপূরণের দাবি খামারিদের।খামারিদের দাবি, শুধু জরিমানা করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা যাবে না। নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড বাজারজাতের কারণে যেসব খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অনুপযুক্ত ফিড বাজারজাত করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা। মুরগির অস্বাভাবিক মৃত্যু ও ওজন না বাড়ার অভিযোগ, ফিডের মান নিয়ে প্রশ্ন এবং ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না হলে অনেক খামারিই পুঁজি হারিয়ে এ ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়বেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025
Developer By insafIT.com.bd
https://writingbachelorthesis.com