1. nwes@w3speace.net : ASIF : ASIF
  2. azahar@gmail.com : azhar395 :
  3. admin@gazipursangbad.com : eleas271614 :
  4. wordpUser4@org.com : GuaUserWa4 :
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

‘আদিবাসী’ স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রীয় অধিকার হারানোর আশঙ্কা: তাজুল ইসলাম ঐক্য ও সমাধানে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই এক, ভেদাভেদ নয়-গাজীপুর সংবাদ 

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ টাইম ভিউ

মোহাম্মদ মাসুদ

জাতীয় পরিচয়ে ঐক্য, সাংবিধানিক অধিকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তির প্রশ্নে নতুন আলোচনা। আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক? জুলাই সনদে আমরা সবাই বাংলাদেশি। পাহাড়ে শান্তি নাকি নতুন পরিচয়ের বিতর্ক?
ঐক্য ও সমাধানে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই এক—ভেদাভেদ নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম: উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সংঘাতহীন সহাবস্থানের ডাক। ঐক্য ও সমাধানে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই এক—ভেদাভেদ নয়। জাতীয় পরিচয়ে ঐক্য, সাংবিধানিক অধিকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তির প্রশ্নে নতুন আলোচনা।

 

“আদিবাসী নয়, অধিবাসী হলেই সমস্যার সমাধান” সালাহউদ্দিন আহমদ। ‘আদিবাসী’ হিসেবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অধিকার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

আদিবাসী’ পরিচয় বিতর্ক নতুন কিছু নয়। জুলাই সনদে আমরা সবাই বাংলাদেশি। পাহাড়ে শান্তি, নাকি নতুন পরিচয়ের বিতর্ক। পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে নানা বিতর্ক ইস্যুতে সমাধানে স্থায়ী শান্তির প্রশ্নে নতুন আলোচনায়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ সহ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের সাবেক চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম স্থানীয় এমপি দীপেন দেওয়ানসহ সরকার ও বেসরকারির গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকবৃন্দের মন্তব্য দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেছেন। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জনে শীর্ষ আলোচনা প্রচারিত হয়।

 

আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়; সাংবিধানিকভাবে সকলের পরিচয় একটাই—’বাংলাদেশী’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

১১ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকল নাগরিকের একটিই মূল পরিচয়—আমরা সবাই ‘বাংলাদেশী’। এখানে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই; আমরা সকলেই বাংলাদেশের ‘অধিবাসী’। সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত।

মন্ত্রী আজ রাজধানীর গুলশানে ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে Chittagong Hill Tracts Research Foundation (CHTRF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “Indigenous Identity is irrelevant for Bangladesh” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

Chittagong Hill Tracts Research Foundation (CHTRF)-এর চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

১১ আগস্ট, রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী **সালাহউদ্দিন আহমদ** বাংলাদেশের সব নাগরিকের অভিন্ন জাতীয় পরিচয় হিসেবে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ভূমি অধিকার, শান্তি চুক্তি ও নাগরিক সমতার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় দেশের সব নাগরিকের মূল পরিচয় এক বাংলাদেশি । একই সঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও বিকাশে রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তথ্য সম্প্রচার ও সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসরত সকল নাগরিক সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে সম্মত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশী’। এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, জাতীয় মূলধারার সাথে সমতা আনার লক্ষ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে, যা সংবিধানেও স্বীকৃত। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শত শত ভাষা প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি; বরং অনগ্রসরদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মূলধারায় যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহীত জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ (UNDRIP) সনদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উক্ত ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল এবং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তিনি আরো বলেন, উক্ত আন্তর্জাতিক ডিক্লারেশন বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার নয়।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী (অব.), মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব প্রমুখ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সংঘাতহীন সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁর মতে, পাহাড়ে মতপার্থক্য, ভিন্নমত কিংবা প্রতিযোগিতা থাকতে পারে; কিন্তু কোনো ধরনের বিভাজন, সংঘাত বা অনৈক্য কাম্য নয়। পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের মূল দৃষ্টিভঙ্গি: মতভেদ থাকতে পারে, সংঘাত নয়। দীপেন দেওয়ানের বক্তব্যে পাহাড়ে মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক বাস্তবতাকে স্বীকার করা হলেও তিনি সংঘাত ও অনৈক্যের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহনশীলতা ও আলোচনার মাধ্যমেই মতভেদের সমাধান হওয়া উচিত।

তিনি উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা,শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি রক্ষায় আরও বলেন,
উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: অপ্রয়োজনীয়, লোকদেখানো কিংবা অকার্যকর প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থের অপচয় না করার পক্ষে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি উন্নয়নকাজে যথাযথ তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা: রিসোর্ট কিংবা অন্য কোনো নির্মাণকাজের নামে নির্বিচারে পাহাড় কাটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—এমন সতর্কবার্তাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি: পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদে নাগরিক পরিচয়:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক পরিচয়। প্রকাশিত ইংরেজি অনুবাদে সংবিধানের ৬ (২) অনুচ্ছেদে **“The citizens of Bangladesh shall be known as ‘Bangladeshis’”** বাক্যটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।

তবে জাতীয় নাগরিক পরিচয় অভিন্ন হওয়ার অর্থ কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা স্বাতন্ত্র্য বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নয়। **নাগরিকত্বের পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক বা জাতিগত পরিচয়—দুটি পৃথক বিষয়।

সংবিধান কী বলে? : বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে বিভিন্ন **tribes, minor races, ethnic sects and communities**-এর স্বতন্ত্র স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। ফলে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বিতর্ক থাকলেও পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

আদিবাসী’—শব্দের লড়াই, নাকি অধিকারের প্রশ্ন? : এক পক্ষের বক্তব্য, ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার বাংলাদেশের অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে জটিল করতে পারে। অন্য পক্ষের বক্তব্য, এই পরিচয় ঐতিহাসিক অস্তিত্ব, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ভূমি ও অন্যান্য অধিকার স্বীকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই বিতর্কের সমাধান তাই কেবল শব্দের ব্যবহারে নয়; বরং আইন, ইতিহাস, বাস্তব তথ্য, নাগরিক সমতা, ভূমি অধিকার ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ : বাংলাদেশ ( LO Convention No. 107) অনুমোদন করেছে। অন্যদিকে (ILO Convention No. 169)বাংলাদেশ অনুমোদন করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক আইন ও ‘Indigenous Peoples’-এর অধিকার নিয়ে আলোচনা থাকলেও শুধু কোনো একটি শব্দ ব্যবহারের কারণে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি: পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় (২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে) বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে। চুক্তির আওতায় পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদসহ বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে।

শান্তি চুক্তি তাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই পার্বত্য অঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি কাঠামো হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।

সংঘাতের রক্তাক্ত ইতিহাস : পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাতের ইতিহাস একপাক্ষিক নয়। বিভিন্ন পর্যায়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, বাঙালি বাসিন্দা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পক্ষের মানুষ নিহত, আহত, বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে নির্দিষ্ট হতাহতের সংখ্যা বা গণহত্যার সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রাথমিক উৎস থাকা জরুরি। তাই প্রমাণ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে প্রকাশ না করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।

স্থায়ী সমাধানের পথ কোথায় ? : পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে শুধু **‘আদিবাসী বনাম বাংলাদেশি’** বিতর্কে সীমাবদ্ধ রাখলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আরও কঠিন হতে পারে। প্রয়োজন—

পাহাড়ি ও বাঙালি সব নাগরিকের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা; ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাংবিধানিক সুরক্ষা বজায় রাখা; ভূমি বিরোধের দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি; শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর ও স্বচ্ছ সংলাপ;
সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ; বিদেশি অর্থায়ন বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত;
পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

শেষ কথা:পাহাড় বাংলাদেশের—পাহাড়ের মানুষও বাংলাদেশের। জাতীয় পরিচয়ে ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানানোর প্রয়োজন নেই।

অভিন্ন নাগরিক পরিচয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আইনসঙ্গত অধিকারও সুরক্ষিত থাকতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী সমাধান কোনো একটি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নয়; বরং পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, নাগরিক সমতা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025
Developer By insafIT.com.bd
https://writingbachelorthesis.com