
সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেলঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২০ আগস্ট। এ উপলক্ষে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিএনপি ও তাঁর স্মৃতিরক্ষায় গঠিত সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মূলবাড়ী গ্রামের সম্ভ্রান্ত তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার ছিলেন এলাকার একজন দানশীল ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি।
ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ছিলেন দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এই নেতা বিএনপির মহাসচিব, সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি চারদলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং চারদলীয় লিয়াজোঁ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট হৃদযন্ত্রের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মরহুম এই বর্ষীয়ান নেতার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা এবং ‘মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, শোক র্যালি, কালো ব্যাজ ধারণ, মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত এবং আলোচনা সভা। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মী ও তাঁর অনুসারীরা প্রয়াত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের আন্দোলনে অবদান এবং বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনকে স্মরণ করবেন।
সরিষাবাড়ীর মাটিতে জন্ম নেওয়া ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার জাতীয় রাজনীতিতে যে অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন, তা আজও স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে।
Leave a Reply