
নিজস্ব প্রতিবেদক,
আশুলিয়া (ঢাকা): ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় স্ত্রী ও দুই বছরের শিশুসন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার অভিযোগ উঠেছে তরিকুল ইসলাম হৃদয় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে ওই নারীর কিশোর ভাই আহত হয়েছেন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম হৃদয়কে রামদাসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। শুক্রবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে আশুলিয়ার এয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে, নরসিংহপুর সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম হৃদয় নিশ্চিন্তপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী মাকসুদা আক্তার ফাতেমা (২২), পিতা মো: মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া।
ভুক্তভোগী মাকসুদা আক্তার ফাতেমার অভিযোগ, ঘটনার সময় তরিকুল ইসলাম হৃদয় একটি গাড়িতে করে ১০ থেকে ১৫ জন লোক নিয়ে তার বাবার বাড়ির সামনে আসে। এ সময় তাদের হাতে রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ও তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে মাকসুদার চিৎকার শুনে তার ভাই ইউসুফ (১৬) তাকে ও শিশুটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাভার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার একপর্যায়ে মাকসুদার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হামলাকারীদের প্রতিরোধ করেন। এ সময় এলাকাবাসী তরিকুল ইসলাম হৃদয়কে একটি রামদাসহ আটক করতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া হৃদয়ের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি বুঝে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আবার হামলার হুমকি দেয়। এ কারণে মাকসুদা ও তার শিশুসন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তার অভিযোগ দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের ঘটেছে। ভুক্তভোগী মাকসুদা আক্তার ফাতেমার দাবি, তার স্বামী তাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তার ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার শিশুসন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে মাকসুদা বলেন, “আমার স্বামী আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। আমাকে ভরণপোষণ দেয় না, আমি অতি কষ্টে বাবার বাড়ি থাকি এর জের ধরে আমাকে ও আমার সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১০ থেকে ১৫ জন লোক নিয়ে রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ হামলা চালানো হয়। আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আমাকে ও আমার সন্তানকে রক্ষা করেন। এ সময় আমার ভাইকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে মাকসুদার বাবা মফিজুল বলেন, তারা আমাকে কোপ দিয়েছিল কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমার গায়ে লাগে নাই। ভাবে তারা আমাকে মারপিট করেছে। আমি এ ঘটনার সত্য বিচার চাই।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।
Leave a Reply