
সেলিম মাহবুব, ছাতকঃ
মানবপাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে ছাতক ২ যুবক ও কোম্পানিগঞ্জের ১ যুবক নিখোঁজ রয়েছে। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও গ্রামের ২ যুবক ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার জালিয়ারপাড় গ্রামের ১ যুবক নিখোঁজ।
তিনজনই কাশ্মীরে কাজের কথা বলে ভারতে যাওয়ার পর নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘপ্রায় দেড় মাস ধরে তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ না থাকায় স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনদের পক্ষ থেকে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
নিখোঁজ তিনজন হলেন-সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন।
আলা উদ্দিন হলেন অভিযোগকারী মোছা.সামতেরা বেগমের জামাতা। অভিযোগকারী মোছা. সামতেরা বেগম (৬০), স্বামী মৃত মনোহর আলী, সৈদেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার অভিযোগ, ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে সোহেল, আয়াছ আলী ও আলা উদ্দিনকে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। ভারতে যাওয়ার পর প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকলে ও একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনজনের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে দালাল ফাহিমের বাবা ফারুক ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। দেয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে।পরবর্তীতে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগকারী পক্ষের আরও দাবি, নিখোঁজ তিনজনকে আটকে রেখে তাদের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত এসব তথ্যের কোন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতা রয়েছে ফারুকের সন্ধানে এসআই মঞ্জু ঘটনার বিষয়ে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়ে এসআই মঞ্জুকে ফারুকের সন্ধান নিতে দায়িত্ব দিয়েছি।”
এরপর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মঞ্জু বলেন, “ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তাকে থানায় আসতে বলেছি, কিন্তু সে আসেনি। সে এলাকায় থাকে না। তার লোকেশন সিলেটের বাইরে।”
তিনি আরও বলেন, “সে জানায়, তার ছেলে ফাহিম ইন্ডিয়ায়। তাকে ও পাচ্ছে না। তবে ফারুকের নির্দিষ্ট সন্ধানের চেষ্টা করা অব্যাহত রয়েছে।”
ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, দালাল এর পিতা “ফারুকের সাথে কথা বলেছি। তার কথাবার্তার ধরণ ভালো না। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply