
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর প্রথম রাউন্ডের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) স্থায়ী কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহম্মেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফিরোজ আলম, নার্সিং সুপারভাইজার দেলোয়ারা বেগম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম রাউন্ডে উপজেলার মোট ২২৩টি কেন্দ্রে একযোগে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৩ হাজার ৫০০ শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩১ হাজার ৫৪০ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত টিকাদান এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে রাতকানা রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহম্মেদ বলেন,“৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরা উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এই জাতীয় কর্মসূচিকে সফল করুন।”
Leave a Reply