
সেলিম মাহবুবঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’ শীর্ষক অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়নও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তাপস শীল’র সভাপতিত্বে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) চাতক চাকমা।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন মানবতার কবি, প্রেমের কবি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর।
তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আকাঙ্কা, সাম্যের বাণী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা শক্তভাবে উঠে এসেছে।
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িকতা,শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজী নজরুল আজীবন কলম ধরেছেন। ‘বল বীর- বল উন্নত মম শির’ কিংবা ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ শুধু কবিতার পঙক্তি নয়, বরং তা মানুষের মুক্তি ও আত্মমর্যাদার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সহিংসতা, দমন- পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে নজরুলের সাহিত্য নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্যাতিত মানুষের কান্না আজও নজরুলের দ্রোহী চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
তাঁর অসাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই ছিল নজরুলের মূল বার্তা। ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’ এর মতো রচনার মাধ্যমে নজরুল সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। বাংলা সাহিত্য,সংগীতও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
Leave a Reply