
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় টেলিভিশন প্রতিষ্ঠান মোহনা টিভিতে
সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা গণমাধ্যমকর্মীদের আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে বেআইনি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে “নীরব গণছাঁটাই”!
স্থায়ী কর্মীদের চাকরিচ্যুতি ঘিরে গণক্ষোভ, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নানা প্রশ্ন। প্রতিষ্ঠানজুড়ে অনিশ্চয়তা। স্বাধীন গণমাধ্যম নিরাপদ কর্মস্থল হুমকি আতঙ্ক, নেতিবাচক প্রশ্নের মুখে কর্তৃপক্ষ।
ছাঁটাইকৃত ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, একের পর এক স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে মোহনা টিভি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানজুড়ে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
চাকরিচ্যুতে কর্মীদের দাবি ও অভিযোগ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ কারণ বিবরণ সবিস্তারে পূর্বনির্দেশ পাওয়া আমাদের প্রাপ্য অধিকার। আমরা স্থায়ী কর্মচারী সত্বেও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সুনির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া হঠাৎ চাকরিচ্যুতি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত আমাদের কর্ম ও প্রতিষ্ঠানের জন্য অনিশ্চয়তা অস্থিরতা হুমকি স্বরূপ। যা কোনভাবেই কাম্য নয়, কোনভাবেই নেওয়ার মতো নয়। কর্মরত কোনো কর্মীকে সরাসরি বা হঠাৎ চাকরিচ্যুত করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ভুক্তভোগীর আরো বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, মালিক কারণ দর্শানো ছাড়া কোনো কর্মীকে বরখাস্ত করতে পারবেন না। তবে ক্ষতিপূরণ ও নিয়ম মেনে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা ছাঁটাই করার আইনি নিয়ম রয়েছে। আমরা সব রকমের আইনি অধিকার ক্ষতিপূরণ সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
ভুক্তভোগীর আরো বলেন, আইনি অধিকার ও ক্ষতিপূরণে স্থায়ী শ্রমিকে কারণ দর্শানো ছাড়া স্থায়ী কর্মীর চাকরির অবসান ঘটালে (ধারা ২৬) তাকে ১২০ দিনের নোটিশ দিতে হবে অথবা নোটিশের পরিবর্তে ১২০ দিনের বেতন এককালীন পরিশোধ করতে হবে। যার কিছুই আমরা পাইনি যা ছিল আমাদের আইনগত অধিকার।
কোন প্রতিষ্ঠানে যদি ন্যূনতম কর্মজীবী হিসেবে অস্থায়ী/অন্যান্য শ্রমিকের মাসিক বেতনভোগী অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের নোটিশ বা সমপরিমাণ মজুরি দিতে হবে। অন্যান্য শ্রমিকের ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ৬০ দিনের নোটিশের বিধান আছে।
চাকরিচ্যুত কর্মীদের দাবি, বছরের পর বছর দায়িত্ব পালনের পর হঠাৎ করেই তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে চাকরি অবসানের চিঠি। অনেক ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অন্য কোনো অভিযোগের বিষয়ে পূর্বে কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি। ফলে এসব সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোহনা টিভির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কার নির্দেশে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে হচ্ছে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন, এই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের দায়ভার আসলে কার?
ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, চাকরি হারানোর ফলে তারা শুধু ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি, তাদের পরিবারও চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনেকের সন্তানদের লেখাপড়া, বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে যদি কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে তা শুধু কর্মীদের জন্য নয়, প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। কারণ সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা একটি গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি।
শ্রম আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী কর্মীদের চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।
এদিকে ধারাবাহিক চাকরিচ্যুতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়লেও মোহনা টিভি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে প্রশাসনিক প্রয়োজন, আর্থিক সংকট নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, সে প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, একটি জাতীয় টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি। অন্যথায় কর্মীদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে মোহনা টিভি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
আমরা স্থায়ী কর্মচারী সত্ত্বেও আমাদের প্রতি কেন রহস্যজনক সিদ্ধান্ত? চরম বৈষম্য অমানবিক বেআইনী সিদ্ধান্তের প্রত্যাহারসহ হোক ইতিবাচক সমাধান। প্রতিটি কর্মক্ষেত্র হোক নির্ভরশীল আস্থা নিশ্চয়তায় নিরাপদ। তথ্য বিভ্রাট প্রকাশ নয়, সত্য প্রকাশে হোক স্পষ্ট স্বচ্ছ ন্যায্য জবাবদিহিতামূলক নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত। যেন জীবন জীবিকা নির্ভরশীল কর্ম ও কর্মক্ষেত্র না হোক প্রশ্নবিদ্ধ।
Leave a Reply