
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে দাবি করা নগদ ১০ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাজির হোসেন (৫৫) এবং তার স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম (৪৮)। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নাজির হোসেন ও নাজমা বেগম ইয়াবা সংগ্রহ করে হরিপুর ও আশপাশের এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন। নাজমা মাদক বিক্রির অর্থের জোগান ও অন্যান্য কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করতেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন। পুলিশ জানায়, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিপুর থানার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) গ্রামের নয়াবাঁশ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন নাজির হোসেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আটক করে।

আটকের পর নাজির হোসেনকে তল্লাশি করে ১৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ১৬০ সিসি হোন্ডা এক্সব্লেড মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজির হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পুলিশ। একপর্যায়ে সেখানে তার স্ত্রী নাজমা বেগম উপস্থিত হলে তার সঙ্গে থাকা একটি শপিং ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ওই ব্যাগ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দাবি করছে, উদ্ধার করা অর্থ মাদক বিক্রির টাকা। জেলা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক সরবরাহকারী, সহযোগী ও ক্রেতাসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মাদকের উৎস, সরবরাহের পথ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নাজির হোসেন ও নাজমা বেগমসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ জানায়, মাদকের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের উৎস শনাক্ত করে নির্মূল করতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
Leave a Reply