
মোঃ সাইফুল ইসলাম (মানিক) এল এল বি অনার্স
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ধানসিঁড়ি রেস্তোরাঁয় এক আবেগঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিনটি নেত্রীর জন্মদিনের আনন্দ উদযাপন হলেও, তা রূপ নেয় বাংলাদেশের বর্তমান দুঃসময়ে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে এক সংহতি সমাবেশে। অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির রোষানলে পড়ে বাংলাদেশে নির্যাতিত হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক এবং তাঁদের বুকভাঙ্গা কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবারগুলোর প্রতি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রামী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন মোল্লার আহবানে ও পরিচালনায় আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষাবিদ ও ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক ড. কাইউম পারভেজ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী কাজী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবি অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, জনাব মুনির হোসেন, মিসেস কবিতা পারভেজ, বিশিষ্ট আইনজীবি অ্যাডভোকেট আইভী রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব আব্দুল জলিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. লাভলী রহমান এবং প্রাক্তন সভাপতি ডা. নুরুর রহমান খোকন।
সভার শুরুতেই বর্তমান বাংলাদেশের লোমহর্ষক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন বক্তারা। আজকের বাংলাদেশে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট, চরম সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, আজ সারা দেশে আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মীর ওপর যেভাবে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় গুন্ডাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। মিথ্যা মামলা, হামলা ও হুলিয়া মাথায় নিয়ে লাখো মানুষ আজ ঘরছাড়া, মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অনুষ্ঠানে আরও বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকার রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জনাব অপু সারোয়ার, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক বাবু নন্দ লাল বড়ুয়া, বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী আশরাফ কবির, ভাঙ্গা থানার আওয়ামী লীগ নেতা জনাব নুরুল ইসলাম, বাসস-র প্রখ্যাত সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রনেতা তাসনিম উদ্দিন চৌধুরী ফাহিম সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
আবেগঘন কণ্ঠে বক্তারা বলেন, আজ বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। এই ক্রান্তিলগ্নে বক্তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন—শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। প্রবাসের মাটি থেকে বক্তারা ব্যাকুল হৃদয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত ও নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করেন সিলেট বেতারের কণ্ঠশিল্পী রাখী রানী সাহা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সাবেক সফল ভিপি ও জিএস এবং বিশিষ্ট ছাত্রনেতা ইফতেখার উদ্দিন ইফতু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা এবং ৯০’র গণআন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা বাবু সন্তোষ বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট রাকেন বড়ুয়া, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব জনাব শাহজাহান বৈতালিক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জামিল হোসেন রনি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা আবু সাঈদ, ডেন্টিস্ট তাহিতি তাবাসুম, মিঃ পল ডি গোমেজ, মিঃ মোহন বৈদ্য, ছাত্রনেতা সৈকত মাহবুব, সব্যসাচী দত্ত, কামরুল ইসলাম, অপূর্ব বরুয়া, মিসকাতুল ইসলাম,মিনহাজুল ইসলাম, বিশাল রহমান, চয়ন রায়, মোঃ গোলাম রব্বানী, জিয়াউল হায়দার, জাকি চৌধুরী, মোঃ কামরুজ্জামান পাঠান ও সামি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ে আত্মোৎসর্গকারী ও নির্যাজিত নেতাকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। পরে পরম করুণাময়ের দরবারে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়; যেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং বাংলাদেশের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। দোয়ার পর সকলে মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক কেটে গানে শ্লোগানে মুখোরিত করে তোলেন। সিডনির প্রবাসী আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই আয়োজন হয়ে ওঠে এক আবেগঘন মিলনমেলা।
সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ ও নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা-
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষাবিদ ও ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক ড. কাইউম পারভেজ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঐক্য প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছি এবং আমাদের এই প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি উপস্থিত সকলের সঙ্গে আলোচনা ও সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে জনাব মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্লাকে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান। সকলের এই স্বতঃস্ফুর্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনাব মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্লা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নবদায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব গিয়াস উদ্দিন মোল্লা বলেন, তিনি দলের সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে অতি দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন এবং সংগঠনের ভেতর ঐক্য বজায় রাখার প্রক্রিয়া জোরালোভাবে চালিয়ে যাবেন। তাঁকে সভাপতি হিসেবে এই গুরুদায়িত্ব প্রদান করার জন্য তিনি সভার সভাপতি, প্রধান অতিথি এবং উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মোল্লা ঘোষনা করেন যে, পূনাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত মিঃ পল সি মধু সংগঠনের যাবতীয় কাজে আমাকে সহযোগীতা প্রদান করবেন।।
Leave a Reply