
মোঃ মামুন হোসাইন।স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম হয়রানি, অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। একটি চোরাই মহিষ আটককে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার উস্কানিতে কৃত্রিম ‘মব’ সৃষ্টি করে উল্টো সাংবাদিকদের এই ঘটনায় জড়িত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।ঘটনার বিবরণী ও অনুসন্ধানে জানা যায়, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে একটি চোরাই মহিষ আটক এবং তা কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির খবর পেয়ে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। সেখানে গিয়ে উপস্থিত যুবকদের কাছে সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানতে চাইলে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা জহির, আরিফ ও সাদ্দামসহ তাদের সহযোগীরা হুট করেই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।তারা সংবাদকর্মীদের কাছে সেখানে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিকেরা স্পষ্ট করেন যে, পেশাগত তথ্যের ভিত্তিতেই তারা সেখানে গেছেন। তবে ছাত্রদল নেতা জহির ও তার দলবল কোনো কথা না শুনে উল্টো সাংবাদিকদের ওপরই মহিষ চুরির দোষ চাপাতে শুরু করেন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অজুহাত তুলে একপর্যায়ে কৃত্রিম ‘মব’ তৈরি করেন।পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে স্থানীয় কোনো বয়স্ক ব্যক্তি বা উপস্থিত জনতা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুললেও, ছাত্রদল নেতা জহির ও তার সহযোগীরা পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ দু’জন সাংবাদিককে থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভিত্তিহীন অভিযোগে তাদের চালান দেওয়া হয়।অথচ যাঁর কাছ থেকে মহিষটি উদ্ধার করা হয়েছিল, তিনি সরাসরি ও জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—উক্ত সাংবাদিকেরা এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন এবং তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ভিডিও ফুটেজ, অডিও রেকর্ড বা দাপ্তরিক প্রমাণ দেখাতে পারেনি অভিযুক্ত মহলটি।স্থানীয়দের মতে, মূল অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতেই ছাত্রদল নেতা জহির উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছেন।এ ঘটনাকে অত্যন্ত জঘন্য ও সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার হীন চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ। অনর্থক সাংবাদিকদের হয়রানি ও কৃত্রিম মব সৃষ্টি করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অপরাধে ছাত্রদল নেতা জহিরসহ জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
Leave a Reply