
মোহাম্মদ মাসুদ
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে গণপরিবহনে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি না থাকায় যাত্রী সেবায় চরম ভোগান্তি হয়রানি দুর্ভোগ নিরসনে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জবাবদিহিতা শৃংখলা নিশ্চিত করতে প্রতিবাদে ক্যাবের র্যালী ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগ এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে বাস, মিনিবাস, টেম্পু ও হিউম্যান হলারসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ এবং যাত্রী হয়রানি রোধের দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বহদ্দারহাট চত্বরে প্রতিবাদী র্যালী ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
যাত্রী সেবা নানা অনিয়ম ভোগান্তি হয়রানি অসঙ্গতি যেন দিনদিন বেড়েই চলেছে। এতে ক্যাবের সদস্য/সদস্যা, ছাত্র/ছাত্রী, সাংবাদিক, পেশাজীবি, সচেতন নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্যাব কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানী তেল, গ্যাস সংকটের অজুহাতে বেশি অনেকদিন ধরেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নৈরাজ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু ভাড়া নির্ধারণের পর গণপরিবহন মালিক বা শ্রমিকদের ইচ্ছেমতো যাত্রীদের কাছ থেকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
তিনি বলেন, প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করে চলাচল করেন। তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও বন্ধ করতে হবে।
নাজের হোসাইন আরও বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত ভাড়া দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তিনি ঢাকার মতো চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করারও দাবি জানান। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। চট্টগ্রামের গণপরিবহনের আধুনিকায়নের পাশাপাশি বিআরটিসির বাস নামানোর দাবি করেন।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য, গণপরিবহন ব্যয় বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো দ্বিগুন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নিম্নআয়ের মানুষ ও নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহারকারীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তাঁরা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

বক্তারা গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া চালু এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গণপরিবহন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছামতো পরিচালিত হতে পারে না। যাত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করতে ভাড়া নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমানের সঞ্চলনায় কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে সমাজকর্মী ও ক্যাব সদস্য মিটুল দাস গুপ্ত, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্দ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মোহাম্মদ জানে আলম, সাধারন সম্পাদক ইসমাইল ফারুকী, পলিসি অ্যাডেভোকেসী গ্রুপের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান মিটু, দৈনিক পূর্বদেশের স্টাপ রিপোটার লায়ন ওসমান সরওয়ার, ক্যাব সদরঘাটের মোস্তফা, ক্যাব পশ্চিম ষোলশহরের এস এম আবদুল আওয়াল, ক্যাব সদস্য মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ, যুব ক্যাব চট্টগ্রামের সদস্য রাইসুল ইসলাম, রায়হান উদ্দীন, মোঃ পারভেজ, সিদরাতুল মুনতাহা, মোঃ মামুনুল ইসলাম প্রমুখ।
Leave a Reply