
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম আদালত বিষয়ক এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাণীশংকৈল বিএম কলেজের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় সভাটির আয়োজন করা হয়। কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।
সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, উদ্দেশ্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর সুযোগ-সুবিধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর রাশেদা আক্তার।সতিনি বলেন, গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও সহজে নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের বিচারিক চাহিদা পূরণ করা। দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রকৃতির ছোটখাটো বিরোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাশেদা আক্তার আরও বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিশেষ করে নারী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি সহজ হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাণীশংকৈল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আহসান হাবীব নবাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কলেজের শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সুবিধা সম্পর্কে জানলে তারা নিজেরা যেমন সচেতন হবে, তেমনি পরিবার ও নিজ নিজ এলাকার মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারবে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply