
মোঃ মামুন হোসাইন।স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিরোধীয় জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনায় সালিশ বৈঠক ডেকেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান। এতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়ে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি মৌজার ১৮৭ নম্বর এসএ, খতিয়ান ভুক্ত ৯টি দাগে মোট ২৬৫ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিকানা দাবি করছেন নুর আলম গং। তবে বাচ্চু হাওলাদার ও তার লোকজন ওই জমিতে দখল বজায় রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। জমির কাগজপত্র নিজেদের পক্ষে রয়েছে দাবি করে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। বিশেষ করে চাষাবাদের মৌসুমে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সালিশে মনোনীত নাসির উদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে জমিতে চাষাবাদের দায়িত্ব থাকলেও মীমাংসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও জমির বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে একটি সুষ্ঠু সমাধান করা হোক, যাতে বিরোধের কারণে চাষাবাদ ব্যাহত না হয় এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। এ বিষয়ে রেকডীও বা ওয়ারিশ সূত্রের মালিক নুর আলম ফরাজিগং বলেন, দুই একর ৬৫ শতাংশ জমি আমার বাপ দাদার রেকরডিও জোরপূর্বক বাচ্চু হাওলাদার গং খাচ্ছে। কিসের বলে খাচ্ছে তাও জানিনা। আমি সালিশির মাধ্যমে জমি ফিরে পেতে চাই। এবলে নুরআলম ফরাজী কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভুক্তভোগী সিদ্দিক হাওলাদার বলেন, আমি গরিব মানুষ আমার। মাদ্রাসার জন্য ভিক্ষা করে আমার জীবন সংসার চালাচ্ছি। প্রায় মানুষের সাথে দিনমজুর কাজ করছি। আমার ছয়টি কন্যা সন্তান রয়েছে। আমার বাপ দাদার জমাজমি থাকতেও আজ আমি নিঃস্ব। আল্লাহ তুমি এদের বিচার করুক। ভুক্তভোগী মজিবর হাওলাদার বলেন, কি যে করব ভেবেই পাচ্ছিনা। একাধিকবার সালিশি হওয়া সত্বেও প্রতিপক্ষরা আসে না। আমরা গরিব মানুষ আমাদেরকে ঘুরাচ্ছে। প্রতিপক্ষ বাচ্চু হাওলাদারের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সার্ভেয়ার জাফর গাজী বলেন, দুপক্ষকে সাথে নিয়ে জমিটি মাপা হয়েছে। এখন সালিশিরা বসে বুঝিয়ে দিলেই হয়ে যায়। প্রতিপক্ষের স্থানীয় সার্ভেয়ার ইদ্রিস মিয়া বলেন, দুপক্ষকে নিয়ে হিস্বা করা হয়ে গেছে। সালিশিরা বসে মীমাংসা করলেই সমাধান হয়ে যায়। উপজেলা বিএনপি নেতা সোবাহান মিয়া বলেন,জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বেশ অনেকবার বসা হয়েছে। যেহেতু দুই পক্ষই জমি নিয়ে ঝামেলা। পানপট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন টিপুকে জমিটি চাষাবাদের জন্য দেয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষের মানিত শালিশ নেছার উদ্দিন রাঢী বলেন, নাসির উদ্দিন টিপুকে দুই পক্ষ মিলে জমি চাষাবাদ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানপট্টি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ত্যাগী নেতা নাসির উদ্দিন টিপু বলেন, উভয় পক্ষই একত্রিত হয়ে দুই পক্ষ সালিশ মাধ্যমে আমাকে জমিটি চাষাবাদ করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। আমার মাধ্যমে জমিটি চাষাবাদ করা হয়েছে। কাগজপত্র যাদের সঠিক পাব তাদেরকেই জমি এবং ধান বুজিয়ে দেওয়া হবে।
Leave a Reply