
মোঃ মামুন হোসাইন।স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীতে মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন নামক দুই ব্যক্তির সম্পর্ক দোস্ত-বন্ধু’র চেয়েও বেশী। এদের মধ্যেশাহাবুদ্দিন’র বাড়ি গলাচিপার গোলখালী ইউপির হরিদেবপুর এলাকায় এবং মামুন’র বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নে বলে সুত্রে জানা যায়। সুত্রে আরও জানা গেছে, তাদের এ দু’ জনের চেনা-জানা ও পরিচয় পটুয়াখালী ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা ঘিরে। তাদের একটি শক্তিশালী চক্র এলএ শাখা কে পুঁজি করে অর্থ বিত্তের মালিক বনে গিয়েছেন। তাদের কাজ শুধু পটুয়াখালী এলএ শাখায় ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করতে আসা নারী- পুরুষদের টার্গেট করে তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে বিপুল পরিমাণ টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া। তাদের নেশা-পেশাই এলএ শাখার ক্ষতিপূরণের টাকা উঠিয়ে দেওয়ার নাম করে এ শাখায় আসা ক্ষতিপূরণ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের থেকে নগদ টাকা, খালি স্টাম্প স্ ব্লাকং চেকে স্বাক্ষর রেখে তাদের স্বর্বশান্ত করা। তাদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউপির মোঃ রফিকুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তি অভিযোগ দিয়েছেন। তারা তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। উক্ত অভিযোগ সুত্রে প্রকাশ,
পটুয়াখালী ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে উক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া,চেকের মাধ্যমে আরও টাকা নেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ মো:শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও মো:আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো: রফিকুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগের সঙ্গে তিনি চেক সুনানি ও টাকা লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করেছেন বলে তা সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেছেন।এ অভিযোগ পত্রে অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,আবদুল্লাহ আল মামুন মৌকরন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উক্ত
অভিযোগ পত্রে রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় তার বেশ কিছু জমি রয়েছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে বিলম্ব হয়। মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর তিনি পটুয়াখালী ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় গেলে শাহাবুদ্দিন ও মামুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
রফিকুল ইসলামের সাংবাদিকদের কাছে দাবি,ওই দুই ব্যক্তি তাকে জানান, তারা এলএ শাখার মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করতে পারবেন। প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে ৬০ হাজার টাকায় বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে ফাইলের আপত্তি নিষ্পত্তির কথা বলে আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন,একপর্যায়ে তাকে পটুয়াখালী শহরের ছোট চৌরাস্তা এলাকায় শাহাবুদ্দিনের ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তার ফাইলের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য ৯ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দুই লাখ টাকা দেওয়ার জন্য বলা হলে তিনি তা পরিশোধ করেন। এরপর বিভিন্ন ধাপে আপত্তি নিষ্পত্তির কথা বলে শাহাবুদ্দিন ও মামুন তার কাছ থেকে মোট ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে আরও অভিযোগ করে বলেন, পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের চেক প্রস্তুত হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে ডেকে আনা হয়। তার জাতীয় পরিচয়পত্র,ছবি ও তার স্ত্রীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়। এরপর পটুয়াখালী রূপালী ব্যাংকের একটি শাখায় তার নামে ব্যাংক হিসাব খোলানো হয়। একই সঙ্গে আবদুল্লাহ আল মামুনও ওই ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত অভিযোগ পত্রে
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেন, তার নামে খোলা ব্যাংক হিসাবের চেকবইও মামুন নিয়ে নেন। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কয়েকদিন পটুয়াখালীতে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে তার ব্যাংক হিস থেকে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য একটি চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন রফিকুল।
এ ছাড়া মামুন তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা বলে আরেকটি চেকে স্বাক্ষর নেন এবং নিজের হিসাব থেকে একটি চেক তাকে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই চেকের মাধ্যমে তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন রফিকুল। এ সময় শাহাবুদ্দিন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রফিকুল ইসলামের দাবি, তিনি পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন। মামুনের দেওয়া সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক নিয়ে কলাপাড়া আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা (নং-১০৪/২৬) চলমান রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, শাহাবুদ্দিন ও মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালত ও থানায় পৃথক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। মামলা করার কয়েকদিন পর পটুয়াখালী এলএ শাখায় তার ফাইল জমা দিতে গেলে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পটুয়াখালী মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গেও শাহাবুদ্দিন ও মামুন জড়িত বলে অভিযোগকারীর দাবি। রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,”আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, রফিকুলের সাথে তার দ্বন্দ্ব নেই, কোন
Leave a Reply