
মোঃ মামুন হোসাইন।স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৫ নং শ্রীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলাকালে প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান আকাশমনি, চাম্বল গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জমিদাতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা সাজিদা আক্তার এর যোগসাজশে গাছগুলো টমটমে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ শে সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ১১ টায় সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে জানাযায়, মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়নের ৫ নং নতুন শ্রীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলে জায়গা ফাঁকা করার অজুহাতে বা নতুন ভবনের স্থানের দোহাই দিয়ে সরকারি সীমানার ভেতরে থাকা বেশ কয়েকটি পরিণত মেহগনি, শিশু ও চাম্বল গাছ কেটে ফেলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও শিক্ষা অফিসের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিলামের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, জমিদাতা আব্দুল মান্নান আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে নিজ প্রভাবে ও গায়ের জোরে গাছগুলো কেটে ফেলেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাজিদা আক্তার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর কোনো অনুমতি না নিয়ে গাছগুলো টমটমে বোঝাই করে স সরিয়ে নেওয়া হয় এবং গোপনে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাজিদা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমি ২০০৪ সালে থেকে এই প্রতিষ্ঠানে এখানে গাছ ছিল কি ছিল তাআমি জানি না। পরে স্থানীয় জনতার সামনে শিকার করেন গাছ ছিল কে নিয়েছে তা আমি জানিনা।সেদিন স্কুল বন্ধ ছিল বলে জানান তিনি।
নিয়ম না মেনে ও তাঁর কোনো সম্মতি ছাড়াই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গাছ এভাবে অবৈধভাবে নিয়ে বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পদ প্রকাশ্যে জোরপূর্বক কেটে নিয়ে বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এলাকাবাসী জানান, কোনো ব্যক্তি জমিদাতা হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ইচ্ছামতো কেটে নিতে বা বিক্রি করতে পারেন না। এ ঘটনায় জড়িত জমিদাতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ গাছের সমপরিমাণ মূল্য সরকারি তহবিলে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর সকালে স্কুলের পাশের ডোবা থেকে বেশ কিছু গাছ উঠিয়ে টমটম যোগে মহিষকাটা স্ট্যান্ডের একটি ছমিলে নেয়া হয়ছে। এব্যপারে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা সাজিদা আক্তার কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। তবে তার কাছ থেকে কোন সদুত্তর মেলেনি।
এব্যপারে জমিদাতা আব্দুল মান্নান এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এলাকার কুচক্রী মহল আমাকে ফাসাতে এ পোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমি নির্দোশ গাছ বিক্রির ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দিয়ে রেখে দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অভিভাবকরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply