
হুমায়ুন কবির রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
সকালের আলোয় রঙিন প্ল্যাকার্ড আর ফেস্টুন হাতে যখন শিক্ষার্থীদের সারি রাণীশংকৈলের রাজপথে নামল, তখন যেন পুরো উপজেলাই একসঙ্গে বলে উঠল, “আর নয় সহিংসতা, আর নয় বৈষম্য।” বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সেই দৃশ্যের সাক্ষী হলো ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এই জনপদ।
“নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষা সুনিশ্চিত করি, সহিংসতা ও বৈষম্যমুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়ি”। এই প্রতিপাদ্যকে বুকে ধারণ করে জাতীয় প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে মানব কল্যাণ পরিষদ আয়োজন করে বর্ণাঢ্য র্যালি, সৃজনশীল প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানের ঠিকানা ছিল উপজেলা পরিষদ হলরুম, আর প্রাণ ছিল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
র্যালিটি উপজেলা চত্বরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এরপর হলরুমে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ছোট ছোট কণ্ঠে যখন অধিকারের কথা উচ্চারিত হচ্ছিল, তখন উপস্থিত অনেকের চোখে ছিল গর্ব আর আশার ঝিলিক। “একা সরকার নয়, দায়িত্ব আমাদের সবার” মানব কল্যাণ পরিষদের উপজেলা সিএসও সভাপতি সাংবাদিক মোবারক আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান বেগম, থানা অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ বারী, প্রেসক্লাব সভাপতি আশরাফুল আলম এবং মানব কল্যাণ পরিষদের সমন্বয়কারী রাশেদুজ্জামান লিটন। বক্তারা একটি কথা বারবার মনে করিয়ে দেন: নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রুখতে শুধু সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে একসঙ্গে সোচ্চার হতে হবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাদের নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ওপরও জোর দেন তাঁরা।অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। পুরস্কার হাতে তাদের উজ্জ্বল মুখগুলোই যেন বলে দিচ্ছিল, সচেতন প্রজন্মই আগামীর নিরাপদ সমাজের ভিত। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলালউদ্দিন সরকার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল, সমবায় কর্মকর্তা
আহম্মেদ হোসেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মানব কল্যাণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
Leave a Reply