1. nwes@w3speace.net : ASIF : ASIF
  2. azahar@gmail.com : azhar395 :
  3. admin@gazipursangbad.com : eleas271614 :
  4. wordpUser4@org.com : GuaUserWa4 :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
Exploring the transformative role of technology in the casino landscape Regulaciones legales en el juego lo que debes saber para evitar problemas Mastering advanced strategies for success in casino games হিজাব ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, প্রতিবাদ ছড়ালো রাজপথে আঘাত ধর্মীয় অনুভূতিতে-গাজীপুর সংবাদ  রাণীশংকৈলে কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাশেমের নির্বাচনী সমাবেশ নির্বাচিত হলে  মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি’-গাজীপুর সংবাদ  ছাতকে অটোরিকশার ধাক্কায় স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত, পা-ভেঙে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে-গাজীপুর সংবাদ  সংবর্ধনা সভায়–কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এমপি ছাতকে সাউথ ওয়েষ্ট সালেহ আহমদ স্কুল এন্ড কলেজ উন্নয়নে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেন-গাজীপুর সংবাদ দুবাইয়ে আটক বেনজীর, পুলিশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিহাসে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-গাজীপুর সংবাদ  সিলেটের ভালো-ভালো কলেজের মতো শিক্ষা সহ সকল ক্ষেত্রে আমরাও ছাতক কলেজকে এগিয়ে নিতে চাই —-কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এমপি-গাজীপুর সংবাদ Hoe Achterkant Eenheid Liaison InPlay Gokcasino Klant Kiezen Voor Casino Tonybet NL Spin & Win

অপসংবাদিকতা ও সহিংসতার ছায়ায় গণমাধ্যমের সংকট-গাজীপুর সংবাদ 

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৬ টাইম ভিউ

আওরঙ্গজেব কামাল :  

অপসংবাদিকতা ও সহিংসতার ছায়ায় গণমাধ্যমের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা আজ গভীর সংকটে পড়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্তমূলক প্রতিবেদনের কারণে সাংবাদিকরা ক্রমশ ভয়াবহ নির্যাতন, হামলা এবং প্রাণনাশের শিকার হচ্ছেন। সত্য তুলে ধরার পথে নানা বাধার সম্মুখীন এই পেশাজীবীরা এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই সংকটের পেছনে রয়েছে বিভিন্ন দিক থেকে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ, যা দেশের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার তথা সাংবাদিক স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রকৃত সাংবাদিকদের শ্রম, ত্যাগ আর সততার ভেতরেও ছদ্মবেশে প্রবেশ করছে অপসংবাদিকতা। শিক্ষাহীন ও অনভিজ্ঞ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভুয়া পরিচয়ে মিডিয়ায় ঢুকে এ পেশাকে কলঙ্কিত করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীরা সাংবাদিকতার কোটে প্রবেশ করে পেশাকে হাতিয়ার বানাচ্ছে। এর ফলে এক সাংবাদিক আরেকজন সাংবাদিককে প্রতিপক্ষ বানিয়ে তুলছে—মব তৈরি হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে ভেদাভেদ। অনেক রাজনৈতিক দলের পূর্বের ছবি ও ভিডিও দিয়ে প্রতিনিয়ত মব তৈলীর মাধ্যমে হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হত্যা, হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের সম্মান নিয়ে পেশাটি যদিও এখনো সগৌরবে রয়েছে। কিন্তু এই সেবামূলক পেশাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে একটি ধূর্তবাজ গোষ্ঠি। যে কারনে সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাদারিত্বের এখন বড় অভাব। ৯০ দশকের সময়ের সাংবাদিকদের সাথে বর্তমান সময়ের সাংবাদিকদের তফাৎ অনেক। সে সময়ের সাংবাদিকদের যে পেশাদারিত্ব ছিল তা এ যুগের সাংবাদিকদের মধ্যে এখন নেই বললেই চলে। পেশাদারিত্বের কথা মুখে বললেও অন্তরে পোষণ করছে ভিন্নতা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে চলছে এই পেশাটি। দিন যত যাচ্ছে ততই সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা বেড়েই চলেছে। একটু চোখ-কান সজাগ রাখলেই বুঝতে পারবেন সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতার কি ভয়াবহতা। এখন পেশাটির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অপসাংবাদিকতা। মফস্বলে এখন সাংবাদিকদের নানা নামে ডাকা হয়। কেউ ডাকেন সামবাদিক সাহেব, কেউ বা হলুদ আবার কেউ ডাকে ভূয়া অথবা সাংঘাতিক বলে। এই বহরে যুক্ত হয়েছে অধিকাংশ শিক্ষাহীন লোক। আর এই সব স্বল্প শিক্ষিত সাংবাদিকরাই যত সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা নিজেদের নাম সই করতে পারেনা তারা এখন সাংবাদিক বনে গেছেন। অগেও অনেক স্বল্প শিক্ষিত সাংবাদিক বড় বড় মিডিয়া কাঁপিয়েছেন সত্য কিন্ত বর্তমানে ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার নামে একে অপরের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করছে। এক গ্রুপ অপর গ্রুপকে সরাসরি লাঞ্চিত বা অপমানিত করছে। সাংবাদিক নির্যাতনের ১শ টি ঘটনা পর্যালচনা করে দেখা যায় তার মধ্যে ৬০ টি ঘটনায় কোনা না কোন সাংবাদিক অপর সাংবাদিকের হয়রানীতে জড়িত ছিল। সাংবাদিকদের মধ্যে দন্দের কারনে পেশী শক্তি সুয়োগ পাচ্ছেন ফলে হয়রানী ও নির্যাত ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অন্তত কয়েকটি গুরুতর হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা প্রমাণ করে এই পেশা কতটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও হামলা ঘটনা ক্রমেই বেড়েই গেছে। গত ৭ আগস্ট ২০২৫: গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন কুপিয়ে খুন হন। প্রতারণার ভিডিও ধারণের সময় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫: খুলনায় সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান (বুলু) রহস্যজনকভাবে মারা যান। পরিবারের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড; পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছে। সাংবাদিক মহল এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। ৫ আগস্ট ২০২৫: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম (দৈনিক রূপান্তর প্রতিনিধি) হামলার শিকার হন। এক সাবেক ছাত্রনেতা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন। ২৬ আগস্ট ২০২৫: খাগড়াছড়িতে বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম প্রফুল্ল-কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয়। এ ঘটনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ ১২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছে আদালত। একটু লক্ষ করলে দেখা যায় জুলাই ২০২৪ থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার সংখ্যা ২০০-এর বেশি এবং মামলা/হয়রানির ঘটনা প্রায় ৪৫০। জুলাই ২০২৪: ঢাকা ও গাজীপুরে ছাত্র আন্দোলন কাভার করার সময় সাংবাদিক হাসান মেহেদি এবং শাকিল হোসেন নিহত হন। এই মাসে অন্তত ১০টি হামলার ঘটনা ও ২৫টি মামলা/হয়রানির অভিযোগ আসে। আগস্ট ২০২৪: ফ্রিল্যান্স ফটোজার্নালিস্ট তাহির জামান প্রিয় এবং সিলেটের সাংবাদিক আবু তাহের এমডি তুরাব নিহত হন। এ মাসে ১২টি হামলা এবং ৩০টি মামলা/হয়রানির ঘটনা রিপোর্ট হয়। সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত: প্রতিটি মাসে অন্তত ১-২টি হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা, ১১–১৮টি হামলা এবং ২২–৪০টি মামলা/হয়রানি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৫ পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হয়রানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময়ে অন্তত ২ জন সাংবাদিক নিহত, ২০টি হামলার ঘটনা এবং ৭০টির বেশি মামলা/হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। আমি যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে,সাংবাদিক হত্যার প্রতিটি ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, অসৎ প্রতিযোগিতা ও অপসংবাদিকতার ছাপ দেখা যাচ্ছে। অনেক ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিক চার্জশিট দিয়েছে, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতি ও সাক্ষীর নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। সাংবাদিক সমাজ বলছে—“অপসংবাদিকতা” মূলত এই পেশার ভেতর থেকে বিভক্তি তৈরি করছে, যা হত্যাকাণ্ড ও হয়রানিকে আরও বাড়াচ্ছে। বর্তমানে সাংবাদিক বনাম অপসংবাদিকতার এই দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত সংবাদকর্মীরা। তারা যখন সত্য তুলে ধরতে চান, তখন রাজনৈতিক, ভুয়া ও অনভিজ্ঞ গোষ্ঠী তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে সাংবাদিকদের হত্যা, মামলা, হামলা, হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। আমার মতে, সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় এখন জরুরি হলো—অপসংবাদিকতা চিহ্নিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে বাধ্য করা এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। নাহলে সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি—সত্য ও ন্যায়ের জয়—সর্বদাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গন আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। প্রকৃত সাংবাদিকরা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করলেও, ভুয়া পরিচয়ে প্রবেশ করা অপসংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব পুরো সাংবাদিক সমাজকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শিক্ষাহীন ও অভিজ্ঞতার অভাবে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি পেশার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আর রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিক পরিচয়ে তাদের কর্মীদের হাতিয়ার বানাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে এক সাংবাদিক আরেক সাংবাদিককে প্রতিপক্ষ মনে করতে বাধ্য হচ্ছে, মব সৃষ্টি হচ্ছে, মামলা ও হামলা চলছে, এবং প্রকৃত সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন।সাংবাদিকের মতো এতো পবিত্রতম একটি শব্দ ও পেশাকে কেন সামবাদিক, হলুদ বা ভূয়া সামবাদিক বলে ডাকা হয় তা কি কখনো গণমাধ্যম বিশিষ্টজনরা ভেবে দেখেছেন? সাংবাদিক শব্দটা যাদের জন্য “সামবাদিক” হয়েছে তাদের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। সাংবাদিকতার মতো পবিত্রতম পেশাটাকে এরা কলংকিত করে রীতিমতো উলঙ্গ করে ফেলছে। আজ অপসাংবাদিকতার ফলে অনেক প্রকৃত সাংবাদিক আজ বিব্রত। যারা জীবন উৎসর্গ করেন ফ্যাক্ট চেকিং, তথ্য সংগ্রহ, রাতজাগা রিপোর্ট তৈরিতে, তাদের জায়গা দখল করে নিচ্ছে কিছু ‘স্মার্ট ফোন সেলফি সাংবাদিক। তারা বড় বড় অফিসারদের হুমকি দিয়ে, ভিডিও করে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে চাঁদা আদায় করে এমন অভিযোগের শেষ নেই। এটা শুধু কিছু ছদ্ম বেশী সাংবাদিকের সমস্যা নয়। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, স্থানীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং সর্বোপরি পাঠকের নীরবতা। একজন সাংবাদিকের প্রধান শক্তি হওয়া উচিত নৈতিকতা, তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনস্বার্থে কাজ করার সংকল্প। অথচ এখন সাংবাদিকতা যেন এক অবৈধ্য অর্থ উপার্জনের উত্তম ব্যবস্থা।অপরাধীরাও এখন সাংবাদিকের খোলস পরে।আর আসল সাংবাদিকরা? যারা সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান, তাদের চাকরি নেই, স্যালারি নেই, সামাজিক স্বীকৃতি নেই। বরং এসব ভুয়া ‘কার্ডবাজদের’ কারণে তারা হন সন্দেহের চোখে দেখা একজন। পুলিশের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, কারণ সাংবাদিক মানেই এখন ‘মিডিয়া’ নয়, অনেকের চোখে চাঁদাবাজ, রাজনৈতিক দালাল কিংবা ভিডিও ভ্লগার। অপ-সাংবাদিক সৃষ্টি এক ধরনের সাংবাদিকতা নির্যাতন। সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, বহু বছর ধরে চলে আসা এই সংকটের মূলে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে এবং এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ আর্থিক স্বনির্ভরতা ও সাংবাদিকদের ঐক্য।
আমরা চাই, সাংবাদিকতা পেশা যেন আগের সৎ ও নির্ভীক চেহারায় ফিরে আসে।
লেখক-গবেষকঃ
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025
Developer By insafIT.com.bd
https://writingbachelorthesis.com