
মোহাম্মদ মাসুদ
জাতীয় সংসদে হিজাব ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ প্রতিবাদ ছড়ালো রাজপথে আঘাত মুসলমান ইসলামপ্রিয় মানুষের হৃদয়ে। ধর্মীয় অনুভূতিতে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
হিজাব ও নিকাব প্রসঙ্গ নিয়ে দেওয়া এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও রাজপথে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিকাব পরিহিত কয়েকজন নারী সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা লেখাপড়া করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। দুইজনের বক্তব্য শুনলাম, কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা।” এ সময় বিএনপির সংরক্ষিত আসনের কয়েকজন নারী সদস্য টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান বলে জানা যায়।
মনিরুল হক চৌধুরীর এ মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংসদে এ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, একজন নারীর পোশাক ও ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। মুহূর্তের মধ্যে তীব্র সমালোচিত হয় সোশ্যাল মিডিয়া গনমাধ্যম সহ দেশজুড়ে। ইসলামপন্থী সংগঠন ধর্মীয় মতাদর্শের মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ইস্যুতে রাজপথে তীব্র বিক্ষোভ আন্দোলনের রূপ নেয় সারা দেশে।

গত ১৪ জুন সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংসদের ভেতরের বিতর্ক দ্রুত রাজপথেও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবাদকারী নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ আইনসভায় দাঁড়িয়ে দেওয়া এ ধরনের মন্তব্য দেশের কোটি কোটি বোরকা ও নিকাব পরিহিত নারীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় পোশাক পরিধানকারী নারীদের নিয়ে কটাক্ষ করা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক।
তারা আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। ধর্মপ্রাণ নারীদের প্রতি অসম্মানজনক বক্তব্য দেওয়ার কারণে মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে মতামত ও প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply