
মোহাম্মদ মাসুদ
চট্টগ্রামে প্রথম মহানগরীতে নারী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীবান্ধব “মহিলা বাস সার্ভিস’” চালু হয়েছে।
যা দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে স্বস্তির প্রত্যাশা, প্রয়োজন সরকারি সেবা—সফলতার জন্য নিয়মিত তদারকি,মাঠ পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণের দাবি, জনপ্রতিক্রিয়ায় এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুবিধাভোগী নারীযাত্রী ও নগরবাসী।
মঙ্গলবার, (১৮ আগস্ট ২০২৬) চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে বহদ্দারহাট–মুরাদপুর–২ নম্বর গেইট–জিইসি–
টাইগারপাস–আগ্রাবাদ–বারেক বিল্ডিং–ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গাপর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগর রুটে বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। নির্ধারিত রুটে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভাড়ায় নারী যাত্রীদের গণপরিবহন সুবিধা দেওয়াই এ সেবার মূল লক্ষ্য।
যা গণপরিবহনের নারীদের নিরাপত্তা ভোগান্তি নিরোশনে জনবান্ধব উদ্যোগে প্রশংসিত হয়েছে সুবিধাভোগী নারী সমাজের। দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহনে নারীদের নানা ধরনের ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভিড়, আসন সংকট ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব সেবা হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে স্বস্তির প্রত্যাশা : চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী প্রতিদিন গণপরিবহন ব্যবহার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী, বাসে ওঠানামায় ধাক্কাধাক্কি, নির্দিষ্ট আসনের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে নারী যাত্রীদের একটি বড় অংশকে প্রতিনিয়ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ব্যস্ত সময়ে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করা দীর্ঘদিনের দাবি। সেই বাস্তবতায় পৃথক মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নগরবাসী।

কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা-গুরুত্বপূর্ণ রুটে সংযোগ : কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এ রুটটি চট্টগ্রাম মহানগরীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রকে সংযুক্ত করেছে। বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, টাইগারপাস, আগ্রাবাদ ও পতেঙ্গার মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন।
ফলে নারী যাত্রীদের জন্য এ রুটে নির্ধারিত বাস সার্ভিস চালুর ফলে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীরা উপকৃত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
সরকারি সেবা—সফলতার জন্য নিয়মিত তদারকি : জরুরি
জনবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর পাশাপাশি এর নিয়মিত পরিচালনা, নির্ধারিত সময়সূচি, পর্যাপ্ত বাস, সাশ্রয়ী ভাড়া এবং যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু উদ্বোধন বা চালু করাই নয়, সেবাটি যেন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়—এটাই এখন নগরবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসে পর্যাপ্ত আলো, পরিচ্ছন্নতা, প্রশিক্ষিত চালক ও কর্মী, শৃঙ্খলাপূর্ণ ওঠানামা এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও কর্মীদের আচরণও হতে হবে পেশাদার ও সম্মানজনক।
জনপ্রতিক্রিয়া: উদ্যোগকে স্বাগত, তবে সেবার মান চান যাত্রীরা। মহিলা বাস সার্ভিস চালুর খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নারী যাত্রীদের অনেকেই মনে করছেন, সেবাটি নিয়মিত ও পর্যাপ্তভাবে পরিচালিত হলে গণপরিবহনে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে।
তবে জনপ্রতিক্রিয়ায় একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশাও উঠে এসেছে—বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা এবং কোনো ধরনের হয়রানি হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।
সেবা সম্প্রসারণের দাবি : নগরবাসীর প্রত্যাশা, কালুরঘাট–পতেঙ্গা রুটে সেবাটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটেও মহিলা বাস সার্ভিস সম্প্রসারণ করা হবে। বিশেষ করে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক এলাকা ও কর্মস্থলকে যুক্ত করে নারী যাত্রীদের জন্য আরও কার্যকর পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারি এ উদ্যোগকে কার্যকর, টেকসই ও জনবান্ধব করতে যাত্রীদের মতামত, অভিযোগ ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ একটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা শুধু নারীর চলাচল সহজ করে না; এটি নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নগরজীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ায়।
চট্টগ্রামের নারী যাত্রীদের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির এ উদ্যোগ তাই কেবল একটি নতুন বাস সার্ভিস নয়—সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি ও সেবার মান নিশ্চিত করা গেলে এটি নগর গণপরিবহনে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।
উক্ত রুটে চলাচলকারী সম্মানিত মহিলা যাত্রীসাধারণকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস গ্রহণের আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
Leave a Reply