1. nwes@w3speace.net : ASIF : ASIF
  2. azahar@gmail.com : azhar395 :
  3. admin@gazipursangbad.com : eleas271614 :
  4. wordpUser4@org.com : GuaUserWa4 :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

ছাতকের আলোচিত ডেভিল স্বপন মিয়া ঢাকায় গ্রেফতার, জেল হাজতে প্রেরণ-গাজীপুর সংবাদ 

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ

সেলিম মাহবুব,ছাতকঃ

অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর আওয়ামীলীগ নেতা ডেভিল স্বপন মিয়া-কে ডিএমপির রমনা থানার একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ডিএমপির রমনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। পরদিন মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাকে সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্বপন মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শারপিননগর গ্রামের মৃতঃ আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ছাতক পৌর শহরের নিজ বাসায় বসবাস করছেন। ছাতক পৌর শহরে তার একাধিক বাসা-বাড়ি রয়েছে।

এর আগে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ছাতক পৌর শহরের তাহির প্লাজার সামনে থেকে স্থানীয় জনতা স্বপন মিয়া-কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ছাতক হাসপাতালে পুলিশের উপস্থিতিতে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। সিলেট নিয়ে যাওয়ার পথে দুই জন পুলিশ ও এম্বুলেন্সে ছিলেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় নি। হাসপাতাল থেকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এমন অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান-কে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় জনগন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে স্বপন মিয়া-কে পুলিশ হেফাজতে অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিলেটের দিকে নেয়া হয়। পরে তাকে রাস্তায় যোকোন স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে ছাতকে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ সময় থানা পুলিশের সাথে স্থানীয় লোকজন বা সাংবাদিকরা যোগাযোগ করতে পারেন নি। বার বার মোবাইল যোগাযোগ করেও ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফোন রিসিভ করেন নি। যারা ফোন রিসিভ করেন তারা এব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছেন।

এর পরদিনই ডিএমপির রমনা থানা থেকে স্বপন মিয়া-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ছাতক থানার মামলা নং ২৮ তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫ । মামলায় দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৯৪- এর ১৫ (৩) /২৫-ডি ধারায় স্বপন মিয়া-কে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এদিকে এম্বুলেন্স চালক আদিল জানায়, ছাতক হাসপাতাল থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে নেওয়ার পথে কালারুকা যাওয়ার পর দুই পুলিশ এম্বুলেন্স থেকে নেমে যান এবং স্বপন মিয়া বাইপাস রোডে নেমে পড়েন।

এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের ভুমিকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। মঙ্গলবার রাত গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, গত-১৩ সেপ্টেম্বর রাত ২৩ ঘটিকা থেকে ২৩:১৫ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে ছাতক পৌরসভার তাহির প্লাজার সামনে পাকা রাস্তায় উত্তেজিত জনতা কর্তৃক জনৈক ব্যক্তিকে গণপিটুনির একটি ঘটনা ঘটে। রাত্রিকালীন কিলো-২(নাইট) ডিউটিরত অবস্থায় বিষয়টি এসআই সালাহ উদ্দিন মোল্লার নজরে আসলে তিনি ২৩:৩৪ ঘটিকায় সময় আমাকে (ওসি) জানান যে, শতাধিক উত্তেজিত জনতা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভিতর এক ব্যক্তিকে গণ পিটুনি দিচ্ছে।

আমি (ওসি) এসআই সালাহ উদ্দিন মোল্লাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করি। পরবর্তীতে তিনি জানান-উক্ত ব্যক্তি মারাত্বক জখম প্রাপ্ত হওয়ায় তার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছে।

আমি তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে গিয়ে প্রকৃত বিষয় জানার জন্য বলি। তিনি জানান, আহত ব্যক্তির নামঃ হাজী স্বপন মিয়া (৫০) পিতাঃ মৃত আব্দুল মান্নান, সাং: শারপিন নগর, নরসিংপুর ইউনিয়ন,থানা: দোয়ারাবাজার,জেলা: সুনামগঞ্জ এবং জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট নিয়ে যাওয়ার জন্য লিখিত ভাবে রেফার্ড করেন।

তার আত্মীয়-স্বজন তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। থানার রেজিস্টার পর্যালোচনা ও তল্লাশি করে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় কোনো গ্রেফতারী পরোয়ানা পাওয়া যায় নাই বিধায় পুলিশি হেফাজতে নারেখে তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যেকোন ব্যক্তি আহত অবস্থায় জরুরী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহনের অধিকার রয়েছে। আমি কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং ঘটনার সার্বিক আদ্যোপান্ত তাৎক্ষণিকভাবে মাননীয় পুলিশ সুপার, সুনামগঞ্জ ও সহকারী পুলিশ সুপার,ছাতক সার্কেল মহোদয়-কে মুঠোফোনে অবহিত করি।

পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফত জানা যায় হাজী স্বপন মিয়া বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত গত-২২/০৭/ ২০২৫ খ্রিঃ তারিখে ছাতক থানাধীন গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন কর্তৃক সংগঠিত ঘটনায় হাজী স্বপন মিয়া জড়িত থাকায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রেখে দ্রুত এসআই সাহাবুল আলমের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেফতারের জন্য সিলেটের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করি।

এবং মাননীয় পুলিশ সুপার, সুনামগঞ্জ এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ও দিক নির্দেশনায় ধারাবাহিক ও লাগাতার অভিযানে হাজী স্বপন মিয়া’কে ১৫/০৯/২০২৬খ্রিঃ রাত ০০.৩০ ঘটিকার সময় ঢাকাস্থ বনানী থানা এলাকায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কৃত আসামী হাজী স্বপন মিয়া (৫২)-কে বিধি মোতাবেক ছাতক থানার মামলা নং-২৮, তাং-২২ জুলাই-২০২৫, ধারা- THE SPECIAL POWER ACT-1974 15(3)/25-D মূলে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উক্ত ঘটনাটিকে তাদের নিজেদের হীন ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার কুমানসে ঘটনার ব্যাপারে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025
Developer By insafIT.com.bd
https://writingbachelorthesis.com