
মোহাম্মদ মাসুদ
সারাদেশের বৈশাখী মেলার প্রধান আকর্ষণের মধ্যে অন্যতম শতবর্ষী ঐতিহ্যের স্মারক বৈশাখী মেলা ও জব্বারের বলি খেলা হিসেবে গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি ঐতিহ্যের ধারক গ্রাহক প্রচার-প্রসার হিসেবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যা আজ বাঙালি সংস্কৃতি ঐতিহ্যে দেশ বিশ্বে জুড়ে ব্যাপক আলোচিত ও পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় নানা জমকালো আয়োজনের অনুষ্ঠিত হয়েছে । ২০২৬ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ১১৭তম জব্বারের বলি খেলা।
২৫ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার) ২৬ এর ১১৭তম আসরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘির ময়দানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাঘা শরীফ (কুমিল্লা) – টানা ৩ বার বিজয়ী রানার-আপ: রাশেদ বলি।
অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় কুমিল্লার বাঘা শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, যা তাকে হ্যাটট্রিক শিরোপা এনে দিয়েছে। রানার-আপ হন রাশেদ বলি। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামে প্রতিবারের মতো এবারও বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হলো।
১১৭তম আসরে রাশেদ বলীর সঙ্গে টানা ২৫ মিনিট খেলে তাকে পরাজিত করে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছেন বাঘা শরীফ। এবারের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া ১০৮ জন বলীকে হারিয়ে ফাইনালে দুই বলীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়, শুরু থেকেই চমৎকারভাবে খেলছিলেন এ দুজন।

‘আবদুল জব্বারের বলী খেলার’ উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এ সময় তিনি বেলুন উড়িয়ে খেলার উদ্বোধন করেন।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাঙালি যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯০৯ সালে এই বলী খেলার সূচনা করেছিলেন আবদুল জব্বার সওদাগর। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার বসেছে ১১৭তম আসর। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও মেলা কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আজ বিকেলে খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এবারের ১১৭তম জব্বারের বলীখেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীকে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
বিজয়ী বাঘা শরীফ, কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা। দ্বিতীয় হওয়া রাশেদ বলী কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নসরাইল গ্রামের বাসিন্দা। খেলায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মিটু বলী। এবারসহ বাঘা বলী চার বারের চ্যাম্পিয়ন।
বিশেষত্ব হিসেবে প্রতিবারের মতো এবারও তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা বসেছে, যা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর তথ্য অনুযায়ী দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
Leave a Reply